Bengal Liberty: ক্ষমতায় আসার আগে বিরোধী দল হিসেবে মালদার জন্য যে চার্জশিট পেশ করেছিল বিজেপি, সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল ভূতনির বন্যা ও জলযন্ত্রণার বিষয়টি। বৃহস্পতিবার মালদায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ভূতনিতে ভাঙন রোধ, কৃষি ও মৎস্যচাষ পুনরুদ্ধারে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে হবে স্থায়ী ভাঙন রোধ
ভূতনিতে প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ভাঙন রোধের কাজ করা হবে। তাঁর কথায়, বাঁধ এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে আগামী দিনে একই ধরনের দুর্দশা এড়ানো যায়। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানান তিনি।
‘ধান নয়, এ বার কলাই-মুগ-পাট’
বন্যার জেরে এ বছর ধান চাষ সম্ভব নয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিকল্প হিসেবে কলাই, মুগ, সরষে ও গম চাষের জন্য কৃষি দফতরকে প্রয়োজনীয় বীজ ও সার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত চাষে ফেরানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে দাবি প্রশাসনের।
আরও খবর

গৃহহীনদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মালদার জলযন্ত্রণা নিয়ে বিগত বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কোনও দিনই ভাবেনি। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমার সব কিছু উজাড় করে দিয়ে গেলাম।” সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। ত্রাণের পাশাপাশি পুজোর আগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
মাছ চাষ, স্কুল ও পানীয় জলেও নজর
মৎস্যচাষিদের রুই, কাতলা, বাটা-সহ বিভিন্ন মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি স্কুলগুলিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো, নলকূপ পুনঃস্থাপন এবং ভূতনি থানায় আধুনিক নৌকা দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি।
বিজেপির আগের চার্জশিটে ভূতনির জলযন্ত্রণার স্থায়ী সমাধানের যে প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের ঘোষণার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।


