Bengal Liberty : নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়া। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলা চালালো ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এই হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিন শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য নির্ধারিত ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনাল চত্বরে হামলা চালানো হয়। সেখানে কোনও সামরিক সুবিধা মজুত ছিল না।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার জন সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি বাংলাদেশ, আমেরিকা, মিশর, প্যালেস্টাইন, জর্ডন, সিরিয়া এবং সুদানের নাগরিকেরা রয়েছেন। হামলার পর বিমানবন্দরে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সমস্ত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে এমনই এক হুথি হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তিনটি বিমান। এই ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন,সৌদি আরবে যা ঘটেছে তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি বাহিনীকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়া
পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও হামলায় এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, নির্দোষ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। ইয়েমেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক এই তীব্রতা বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাই মাসে হুথিরা পুনরায় আক্রমণ শুরু করে। সানা বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রত্যুত্তরেই এই আক্রমণ, জানায় তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজেদের আকাশপথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ করতে ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে অতিরিক্ত সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছে।
আরও খবর
ওমান উপসাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন সেন্টকমের ক্ষেপণাস্ত্র হানার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। রিয়াধ বিমানবন্দরে এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। হুথিরা এর আগে সৌদির আকাশপথ ব্যবহার না করার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে শেষবারের মতো সতর্ক করেছিল। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, ফ্লাইদুবাই ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা রিয়াধ ও অন্যান্য সৌদি শহরের উড়ান স্থগিত রেখেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা সংস্থাও সৌদি আকাশপথে যাতায়াত নিয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধান তেল রফতানিকারক এই রাষ্ট্রে এমন ধারাবাহিক হামলায় সে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে।


