Bengal Liberty : ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে নেপাল। রবিবার ভোরে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বানে তছনছ হয়ে গেল জনজীবন। ভারী বৃষ্টির খবর ছিল না। নদীর জলস্তরও ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু আচমকাই নেমে আসে ভয়াবহ হড়পা বান। জলের তোড়ে ভেসে যায় নদীতীরবর্তী একাধিক বাড়ি-ঘর-সহ গোটা জনপদ।
কী ভাবে হড়পা বান
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ে ধসের জেরে তৈরি হয় একটি অস্থায়ী জলাশয়। পরবর্তী সময়ে জল জমে চাপ বাড়তে থাকায় ওই জলাশয় উপচে পড়ে। আচমকা জলের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় অস্থায়ী জলাধারটি। তার পরেই প্রবল শব্দে পাহাড় থেকে নেমে আসে জলস্রোত। মুহূর্তে ঘটে বিপর্যয়। রবিবার ভোরে বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। তখনই তাঁরা দেখতে পান হড়পা বানের ভয়াবহ রূপ।
হড়পা বানের জেরে নেপালের গোর্খা জেলার সালেরি অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি বাড়ি ভেসে যাওয়ার খবর মিলেছে। ভেঙে পড়েছে একটি লোহার সেতু এবং দু’টি ঝুলন্ত সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বুড়ি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। নেপাল প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার নামানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
আরও খবর
বিপর্যস্ত নেপাল
বিপর্যয়ের আশঙ্কায় গোর্খা, ধাদিং, চিতওয়ান ও তানাহুন জেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাসিন্দাদের নদীর ধার থেকে সরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তরফেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নেমেছিল। সেই বিপর্যয়ে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয় বলে খবর। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। সেই বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। পরপর এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ চালানো, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং জনজীবন স্বাভাবিক করে তোলা নেপাল প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


