Bengal Liberty : ফের বড়সড় সাফল্য পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। টানা ১৭ দিনের অভিযানে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সক্রিয় একটি সংগঠিত আন্তঃরাজ্য অবৈধ অস্ত্র পাচার চক্রের হদিস পেলেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় বিহারের মুঙ্গের ও ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং অবৈধ অস্ত্র বিক্রির টাকা বলে সন্দেহ করা নগদ ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। গোটা চক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে STF।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু অভিযান
STF-এর এই বিশেষ অভিযান শুরু হয় ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ওই দিন দুর্গাপুর থেকে মহম্মদ ফারহান ওরফে মুসানকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। এরপরই অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে নামে তদন্তকারী দল। অস্ত্র পাচারের পিছনে কারা রয়েছে, কীভাবে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং এই কারবারে আর্থিক লেনদেন কীভাবে চলছে, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেন আধিকারিকেরা।
একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে অস্ত্র পাচারের জাল
তদন্তে উঠে আসে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সক্রিয় একটি আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের অস্তিত্ব। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিহারের জামুইয়ের মহম্মদ ফারহান, মুঙ্গেরের মহম্মদ শাহনওয়াজ আলম ওরফে গুড্ডু, জামুইয়ের পবন কুমার সিং এবং ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের গণেশ রানা।
আরও খবর
উদ্ধার নগদ ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা
অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেও তদন্ত চালিয়েছেন STF-এর আধিকারিকেরা। এখনও পর্যন্ত নগদ ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে, যা অবৈধ অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ।

টানা ১৭ দিনের অভিযানে আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেফতার এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর তদন্ত আরও জোরদার করেছে STF। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, কোথা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করা হত এবং কোথায় কোথায় তা সরবরাহ করা হত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, অবৈধ অস্ত্রের কারবারে যুক্ত বাকি সহযোগীদের শনাক্ত করে গোটা চক্রটিকে ভেঙে ফেলাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।


