মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ডবল নয়, এ বার ট্রিপল ইঞ্জিন! কলকাতা-হাওড়া দখলের টার্গেট বেঁধে দিলেন শুভেন্দু

তাঁর সাফ বার্তা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার এসেছে। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, কলকাতা ও হাওড়ায় বিজেপিকে জিতিয়ে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়তে হবে! একই সঙ্গে রেজিনগরে বিজেপির জয়কে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভাঙার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের ‘ভাগীরথী’ মন্তব্য নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের জন্য সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত বিজয় মিছিল করে বিজেপি। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দলের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দুই জয়ী প্রার্থী। মিছিল শেষে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা থেকে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা জয়ের লক্ষ্যে কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথায় ডবল ইঞ্জিন দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ট্রিপল ইঞ্জিন দিতে হবে। আপনারা দেবেন তো? হাওড়া-কলকাতা পুরসভা দিতে হবে।” তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে ফলতার উপনির্বাচনের জয়ের ব্যবধান ছাপিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। এ বার পুরসভা নির্বাচনেও বড় ব্যবধানে জিতে পদ্ম ফোটাতে চায় বিজেপি। দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা দখলকেই পাখির চোখ করছে গেরুয়া শিবির।

বিজয় মিছিলের সভা থেকে হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। রেজিনগরে প্রচারের সময় হিন্দুদের ‘ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার’ বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ুন। উপনির্বাচনে তাঁর ছেলের পরাজয় এবং ফল ঘোষণার আগেই হুমায়ুনের রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা ঘিরে তাঁকে ফের কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “৩০ ভাগকে ভাগীরথীর জলে ভাসাবে বলেছিল। এখন নিজেই নাকের জলে চোখের জলে ভাসছে।”

উল্লেখ্য, রেজিনগরে প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম ও ৩০ শতাংশ হিন্দু ভোটার থাকা সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকার ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি সংখ্যালঘুদের ভোট পায় না—এই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন রেজিনগরের মানুষ। শুভেন্দুর কথায়, “তাঁরা দেখেছেন, ভোট না দেওয়া সত্ত্বেও মোদির নেতৃত্বে বিজয়রথ আটকানো যায়নি। তাই তাঁরা আজ মূলস্রোতে এসে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্মাণ ও উন্নয়ন, প্রগতির জন্য আজকে আমরা এক জায়গায় এসেছি।”

Bengal Liberty