রেললাইন মেরামত
রেললাইন মেরামত

পূর্ব রেলওয়ের আসানসোল ডিভিশনে নতুন হাইড্রোলিক যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত রেললাইন মেরামত

আসানসোল ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার সংগ্রহ মৌর্যের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এই রিমোট-নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সাহায্যে রেলকর্মীরা কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রের নিয়ন্ত্রিত শক্তি ব্যবহার করে সহজেই ভারী কংক্রিটের স্লিপারগুলির অবস্থান ঠিক করতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পদ্ধতিতে রেললাইনের মেরামতির কাজ এখন ট্রেন চলাচল বন্ধ না করেই কিংবা ট্রেনের গতি কমানোর প্রয়োজন ছাড়াই করা সম্ভব। এই যন্ত্রের সম্পূর্ণ সেটে রয়েছে দুটি হাইড্রোলিক স্পেসার, হ্যান্ড পাম্প, স্টপার এবং ছোট ছোট প্যাকিং পিস। ভারী রেললাইনের অংশে কাজ করার জন্য যন্ত্রটির ঠেলার ক্ষমতা ১৫ টন, যা আগের ১০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মডেলের তুলনায় উন্নত। যন্ত্রটি একবারে একটি স্লিপারকে সর্বোচ্চ ১২৫ মিলিমিটার পর্যন্ত সরাতে পারে।

রেললাইনের দু’পাশে একই সঙ্গে এই যন্ত্র ব্যবহার করার ফলে স্লিপারগুলিকে সঠিকভাবে সারিবদ্ধ রাখা যায় এবং রেললাইনের যথাযথ বিন্যাস বজায় থাকে। যন্ত্রটির ওজন প্রায় ২৫ কেজি হওয়ায় মাত্র দু’জন কর্মী সহজেই এটি বহন ও স্থাপন করতে পারেন। কর্মীরা রেললাইনের পাশে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ১.৫ মিটার লম্বা হোস পাইপের সাহায্যে দূর থেকে যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণ করেন। এই যন্ত্রে বিশেষ এ৬৮ গ্রেডের হাইড্রোলিক তেল ব্যবহার করা হয়। এর নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এতে রয়েছে ২৪০ মিলিমিটার ক্লোজড লেংথ, ১২০ মিলিমিটার হাইড্রোলিক লিফট এবং ৪৫০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের অপারেটিং হ্যান্ডেলের মতো সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য।

জামতারা-র ৫২বি নম্বর পয়েন্টে সফলভাবে এই যন্ত্রের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে শ্রমিকরা শাবলের সাহায্যে স্লিপারের চারপাশের পাথরের ব্যালাস্ট আলগা করেন, তবে সমস্ত পাথর সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয় না। এরপর রেললাইনের দু’পাশে যন্ত্রটি স্থাপন করে দূর থেকে পাম্প চালানোর মাধ্যমে স্লিপারটিকে তার সঠিক অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্লিপারের অবস্থান ঠিক হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চলাচল নিরাপদে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে হাতে রেললাইন মেরামতির তুলনায় এই নতুন পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর ও দ্রুত।

আগে এই কাজের জন্য ১৮ থেকে ২০ জন কর্মীর একটি বড় দল প্রয়োজন হত। তাঁদের হাতে করে স্লিপারের চারপাশের সমস্ত পাথর সরিয়ে ফেলতে হত। এর ফলে রেললাইনের ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন বিঘ্নিত হত এবং নিরাপত্তার কারণে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে হত। অন্যদিকে, নতুন হাইড্রোলিক স্পেসার ব্যবহারের ফলে মাত্র ৬ থেকে ৮ জন কর্মী দিয়েই কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে। পাথর সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হচ্ছে না এবং ট্রেনের গতিও কমাতে হচ্ছে না। একটি সাধারণ রেললাইনের স্লিপারের অবস্থান ঠিক করতে এখন মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট সময় লাগছে, যেখানে হাতে কাজ করলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগত।

একইভাবে, টার্নআউট ট্র্যাকের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতিতে ১২ থেকে ১৫ মিনিটেই কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে, যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগত। এই উন্নত প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, “আসানসোল ডিভিশনে হাইড্রোলিক স্লিপার স্পেসারের ব্যবহার শুরু করা পূর্ব রেলওয়ের সর্বত্র রেললাইনের কাজকে আরও নিরাপদ ও আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক গতিতে অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং রেলকর্মীদের কাজও অনেক সহজ হয়ে উঠছে। এর ফলে যাত্রীসাধারণের পাশাপাশি রেলকর্মীরাও উপকৃত হবেন।”

Bengal Liberty