Bengal Liberty: এসআইআর-এর তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় গরমিল-সহ একাধিক অভিযোগে যখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ, তখন আরও এক নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শৃঙ্গেরি কেন্দ্রের ভোট গণনার ভিডিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কমিশন। আর তাতেই ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা—কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে, তখন ভোট গণনার গুরুত্বপূর্ণ নথি না মেলায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল দেশের নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা।
বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের দায়সারা অজুহাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আদালতের নির্দেশ, পরবর্তী শুনানিতে কমিশনের কাছে থাকা সমস্ত নথি জমা দিতে হবে। তা না হলে কমিশনের বিরুদ্ধে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আদালতের প্রশ্ন, নির্বাচন পরিচালনা করাই যখন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব, তখন ভোট গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার নথি কীভাবে হারিয়ে যায়?
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। শৃঙ্গেরি কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী টি ডি রাজেগৌড়া বিজেপির ডি এন জীবরাজকে মাত্র ২০১ ভোটে হারিয়েছিলেন। পরে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের পুনর্গণনার পর ফল উল্টে যায়। পুনর্গণনায় জীবরাজ ৫২ ভোটে জয়ী হন। এর ফলে ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের জয় হাতছাড়া হয়। রাজেগৌড়ার অভিযোগ, কর্নাটক হাই কোর্টের নির্দেশের সীমা অতিক্রম করে আগে বৈধ ঘোষিত ব্যালটও পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছিল।
আরও খবর
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বাতিল হওয়া ২৭৯টি ব্যালটের পাশাপাশি আরও ১,২৫১টি বৈধ ব্যালট পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়া হাই কোর্টের নির্দেশের বাইরে গিয়ে হয়ে থাকতে পারে বলেও জানায় আদালত। পুনর্গণনার বৈধতা খতিয়ে দেখতে মূল ভোট গণনার ভিডিও এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট চেয়েছিলেন রাজেগৌড়া।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা ভিডিও রেকর্ডিং জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন নির্বাচন কমিশন কী কী নথি জমা দেয়, এখন সেদিকেই নজর।


