Mahua Moitra
মহুয়া মৈত্র এবং মনোজ কুমার আগারওয়াল

‘ভোটচোর’ মন্তব্যে মহুয়াকে আদালতের নির্দেশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছতে হবে বিতর্কিত পোস্ট

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ ছিল, লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালি ভোটারের ভোটাধিকার বেআইনিভাবে কেড়ে নেওয়ার জন্য দায়ী মনোজ আগরওয়াল। তাঁকে ‘ভোটচোর’ বলেও আক্রমণ করেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। একটি পোস্টে মহুয়া লেখেন, “দেশ এ বার আপনাকে ধাওয়া করবে। ছাড় পাবেন না।”

মহুয়ার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেন মনোজ। মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, মহুয়ার পোস্টে শুধু এসআইআরের সমালোচনা করা হয়নি, সেখানে মনোজের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কিন্তু সেই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি মহুয়া।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, এসআইআরের মতো জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায় এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করা যায়। তবে সমালোচনার নামে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অপমান করা বা নিশানা করা যায় না।

মহুয়ার মন্তব্যের পর তাঁকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন মনোজ আগরওয়াল। নোটিসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত পোস্ট দু’টি মুছে ফেলার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর মন্তব্য না করার প্রতিশ্রুতি দিতেও বলা হয়।

মনোজের দাবি, মহুয়ার অভিযোগের জেরে তাঁর সততা, পেশাগত দক্ষতা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা এবং আইনি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন তিনি। মনোজের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে তিনি আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোট চুরি, কারচুপি বা কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন বলেও দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতর্কিত পোস্ট দু’টি মুছে ফেলতে হবে মহুয়াকে। পাশাপাশি, মনোজের বিরুদ্ধে মানহানিকর নতুন পোস্ট করা বা পুরনো পোস্ট ফের শেয়ার করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Dipsikha Mandal
দীপশিখা মণ্ডল

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ২০২৩ সালে সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ। ETV ভারত, এক্সপ্রেস নিউজ ঘুরে এখন বেঙ্গল লিবার্টি-তে। বিনোদন, দেশ দুনিয়ার খবরের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। ঝোঁক বেশি রাজ্য এবং জেলার খবরে। ফটোগ্রাফিতেও সময় কাটে। অসময়ের সঙ্গী বই আর সিনেমা। নেশার বস্তু কফি, প্রকৃতি আর কবিতা।