Bengal Liberty : কলামিস্ট , নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.
শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও জনমত আজ সুদৃঢ়ভাবে গড়ে উঠেছে। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের অন্যতম প্রধান প্রতীক। এই সত্যটি আজ মধ্যস্থভাবে বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণিত হয়েছে।
কেন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য শেখ হাসিনা অপরিহার্য
উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাস দমনের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তিনি কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করেছিলেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলকে নিরাপদ রেখেছিল। ৫ আগস্টের পর উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান, নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য মিছিল এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলা প্রমাণ করেছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অভিভাবক: বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখেছিলেন যা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রেখেছিল। তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহার করতে পারবে না। আজ সেই স্থিতিশীলতা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই বৈশ্বিক শক্তিগুলো এখন বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে অপরিহার্য মনে করছে।
আরও খবর
ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিশ্চয়তা:শেখ হাসিনাই একমাত্র নেত্রী যিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা সমুন্নত রেখেছেন। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ। আজ যখন মন্দির ভাঙচুর হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পোড়ানো হচ্ছে, তখন বিশ্ব উপলব্ধি করেছে যে, ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল বাংলাদেশ কেবল শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ।
কিভাবে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে উঠেছে
গত দুই বছরে তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বক্ষেত্রে এবং বিএনপি সরকার- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, মব লিঞ্চিং, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমনের বিষয়ে ক্রমাগত রিপোর্ট প্রকাশ করছে।
ঢাকায় অবস্থিত বিদেশী দূতাবাস, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং বৈশ্বিক থিংক-ট্যাঙ্কগুলো খোলাখুলিভাবে বলছে যে, বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, নির্বাচিত সরকার নেই। দেশের রিজার্ভ তলানিতে নেমেছে, ব্যাংকগুলো দেউলিয়ার পথে, আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে তিনটি কারণে শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি হয়েছে
প্রথমত, মানুষ তাঁর উন্নয়ন মডেল বনাম বর্তমান ধ্বংসের তুলনা দেখেছে , দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক শক্তিগুলো বুঝতে পেরেছে যে, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশ উগ্রবাদের দিকে ধাবিত হবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।তৃতীয়ত, বিদেশে বসবাসরত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী সংগঠিত হয়ে বিদেশী সরকার ও পার্লামেন্টগুলোকে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করছে।
তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের নেত্রী নন। তিনি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি এবং নিরাপত্তার নাম। আজ বিশ্ব একবাক্যে বলছে – একটি নিরাপদ, ধর্মনিরপেক্ষ, স্থিতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


