Bengal Liberty : কলামিস্ট প্রাইমা হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও সংগঠক.
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব দুর্নীতি, তদবিরবাজি ও দলীয়করণের মহোৎসব। মুখে সংস্কারের কথা বললেও ভিতরে ভিতরে চলছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের নীল নকশা। আজ বাংলাদেশে ‘আমলা’ বলতে আর কিছু নেই। যা আছে তা হলো একটি বিশেষ দলের আদর্শে বিশ্বাসী একদল দলবাজ কর্মকর্তা।
তদবির বাণিজ্যের মহোৎসব
৫ আগস্টের পর যে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তার প্রথম কাজই ছিল তদবির বাণিজ্য। সচিবালয়ের প্রতিটি দপ্তরে এখন একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তার এই উত্তরসূরী তথাকথিত বিএনপি সরকার একেই কাদায় রাষ্ট্রব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু দেশের জনগণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সর্বস্তরের মানুষের দুঃখ ও দুর্দশা আগের চেয়ে আরো বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ। পরিবর্তন হয়েছে কিছু সংখ্যা দলীয় নেতা কর্মীদের আর কোনো পরিবর্তন হয়নি।
আরও খবর
তথ্য বলছে, গত ১২ মাসে প্রশাসনে ৭০০-র বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। ডিসি, এসপি, ইউএনও, সচিব – সব জায়গায় নিয়োগ হচ্ছে তদবিরের ভিত্তিতে। কোনো মেধা বা জ্যেষ্ঠতার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। যার মামা-খালুর জোর বেশি, যিনি জামায়াত-শিবির বা বিএনপি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ, তারই পদোন্নতি হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়গুলোতে ঠিকাদারি নিয়োগ, বদলি, প্রমোশন – সবকিছুর জন্য এখন ১০ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকার তদবির বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি এখন ওপেন সিক্রেট।
আমলাতন্ত্রের মৃত্যু, দলবাজদের উত্থান
বাংলাদেশে একসময় একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও মেধাবী আমলাতন্ত্র ছিল। শেখ হাসিনার আমলে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হতো।
কিন্তু আজ সেই আমলাতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ৮০% গুরুত্বপূর্ণ পদে এখন এমন ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যারা সরাসরি একটি দলের আদর্শে বিশ্বাসী। তারা জনগণের সেবক নয়, তারা একটি দলের কর্মী হিসেবে কাজ করছে। ফলে সাধারণ মানুষ সচিবালয়ে গিয়ে কোনো সেবা পাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বা সংখ্যালঘু শুনলেই তাদের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে।
মেধাবীদের অন্যায়ভাবে ছাঁটাই
এই সরকারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো মেধা ও যোগ্যতার প্রতি ঘৃণা। গত এক বছরে প্রায় ৩ হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক অবসর, ওএসডি এবং বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে আছেন- ২৫ জন সচিব ও অতিরিক্ত সচিব- ৫০ জনের বেশি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি- ১৫০ জনের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ভিস- ৫০০-র বেশি পুলিশের দক্ষ কর্মকর্ত- রেল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ খাতের শত শত প্রকৌশলী ও ডাক্তার
তাদের অপরাধ কি? তাদের অপরাধ তারা মেধাবী, তারা অভিজ্ঞ, তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করতেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিব, যার চাকরির আর ২ বছর বাকি ছিল, তাকে ওএসডি করে বাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকার অভিজ্ঞতা নষ্ট হচ্ছে। একজন দক্ষ আমলাকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের ২০ বছর লাগে। কিন্তু তাকে ধ্বংস করতে এই সরকারের ২০ মিনিটও লাগছে না।
এভাবে চলতে থাকলে দেশে আর কোনো মেধাবী মানুষ সরকারি চাকরিতে আসতে চাইবে না। প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে। ইতিমধ্যেই সেবা খাতে ধীরগতি, ফাইল জট, এবং দুর্নীতি ৩০০% বেড়ে গেছে।
এই অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যায়ভাবে ছাঁটাইকৃত সকল কর্মকর্তাকে সসম্মানে তাদের পদে ফিরিয়ে আনতে হবে। নইলে এই রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকবে না, এটি একটি দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।


