Bengal Liberty : দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল মধ্য আফ্রিকার দেশ গ্যাবন। গত শনিবার, ২৪ অক্টোবর, দেশটিতে ফের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে গ্যাবনের হাই অথরিটি ফর কমিউনিকেশন (HAC)। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে।
কেন বন্ধ করা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া?
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্যাবনে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, মানহানিকর পোস্ট এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক বিষয়বস্তু দেশের সামাজিক সংহতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছিল। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়।
কোন কোন পরিষেবা ফিরল?
নিষেধাজ্ঞার জেরে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বহু মানুষ VPN-এর সাহায্য নিয়েছিলেন। এবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে ফের স্বাভাবিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের পথ খুলল।
আরও খবর
নিষেধাজ্ঞা উঠলেও থাকছে একাধিক নিয়ম
তবে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও থাকছে বেশ কিছু বিধিনিষেধ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের পরিচয়পত্র-সহ আনুষ্ঠানিক পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি, অনলাইনে ভুয়ো খবর ও বেআইনি বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণে মেটা, টিকটক এবং ইউটিউবের সঙ্গে সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গ্যাবনের এই নিষেধাজ্ঞা ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের একাংশ এই পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছিল। প্রেসিডেন্ট ব্রিস ওলিগি এনগুয়েমার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকুচিত করার অভিযোগও উঠেছে।
২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে কঙ্গো পরিবারের ৫৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছিল। সেই সময় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আশা তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে


