Bengal Liberty : ফের হাইতির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মিশেল মার্তেলি। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করার লক্ষ্যে প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম নথিভুক্ত করলেন হাইতির প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর হাইতিতে সাধারণ নির্বাচন ঘিরে যখন রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় মার্তেলির এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, পোর্ট-অ-প্রিন্সে হাইতির অস্থায়ী নির্বাচন পরিষদের দফতরে উপস্থিত হন মার্তেলি। তিন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েকশো সমর্থক।
এর আগে অনলাইনেও নিজের প্রার্থীপদ নথিভুক্ত করেছিলেন মার্তেলি। এবার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও একধাপ এগোলেন তিনি। ‘ডেবলকে’ (Debloke) রাজনৈতিক জোটের হয়ে নির্বাচনে লড়তে চলেছেন মার্তেলি। এই জোটে রয়েছে তাঁর পূর্বতন দল PHTK-র প্রাক্তন সদস্যরাও।
আরও খবর
তবে মার্তেলির নির্বাচনে প্রত্যাবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক বিতর্ক। একসময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, ‘সুইট মিকি’ নামে পরিচিত মার্তেলি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত হাইতির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলেছেন।
মাদক পাচারে সহায়তা এবং সশস্ত্র গ্যাংগুলিকে মদত দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা ও কানাডা। ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষাপটেই তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গ্যাং হিংসা ও নিরাপত্তা সংকট। এই পরিস্থিতিতে আদৌ সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাপট, সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোর অনিশ্চয়তা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলেছে।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ধার্য করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমাও ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
মার্তেলির রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন কে ঘিরে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। আবারও কী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে দেখা যাবে হাইতির বিতর্কিত চরিত্র কে? নাকি নতুন প্রজন্মের সামনে হার শিকার করবেন তিনি? এই প্রশ্ন কে কেন্দ্র করে চলছে জোর কদমে আলোচনা।


