Bengal Liberty : উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাজবাদী পার্টি (সপা) ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। দুই দলই জোটের পক্ষে থাকলেও আসন বণ্টনের প্রশ্নে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। এরইমধ্যে জোটে মুসলিমদের জন্য ১০০টি আসন বরাদ্দের দাবি তুলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিভাগের রাজ্য সহ-সভাপতি হাসিব খান।
কংগ্রেস নেতা হাসিব খানের দাবি, উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মুসলিম। ফলে নির্বাচনে তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সপা-কংগ্রেস জোটের আসন সমঝোতায় মুসলিমদের জন্য ১০০টি আসন রাখা উচিত। বাকি আসনগুলি অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে বলেও মত তাঁর। হাসিব খানের কথায়, মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কেবল ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় পৌঁছনোর সুযোগও তাঁদের প্রাপ্য। তাঁর মতে, ‘আমাদের ২০ শতাংশ অংশ শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আসন ভাগাভাগিও এর একটি অংশ হওয়া উচিত।’ পাশাপাশি, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে মুসলিম প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, হাসিব খান আগে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস মুসলিম-সহ সব সম্প্রদায়কে সম্মান করে। সেই কারণেই তিনি এই দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে মুসলিমদের জন্য ১০০টি আসনের দাবিতে জোটের নেতৃত্ব গুরুত্ব দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে হাসিব খানের এই দাবি কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা স্পষ্ট নয়।
আরও খবর
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে সপা ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সূত্রের দাবি, কংগ্রেসকে ৫০ থেকে ৬০টির বেশি আসন ছাড়তে আগ্রহী নয় সমাজবাদী পার্টি। অন্যদিকে, কংগ্রেস অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি আসনে লড়তে চাইছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি দুই দল। কংগ্রেসের তরফে দ্রুত আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার পক্ষে সওয়াল করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তাদের যুক্তি, নির্বাচনের আগে কোন দল কোন কেন্দ্রে লড়বে, তা নির্ধারণ করা গেলে প্রার্থী বাছাই, সংগঠন মজবুত করা এবং প্রচারের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে। দেরিতে সিদ্ধান্ত হলে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি সভাপতি অখিলেশ যাদবের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় ‘জয়ের সম্ভাবনা’কে আসন বণ্টনের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
অর্থাৎ, শুধু সামাজিক প্রতিনিধিত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচনী সম্ভাবনাও সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, উত্তরপ্রদেশে বিরোধী জোটের সামনে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কতগুলি আসনে দুই দল সমঝোতায় পৌঁছবে এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। হাসিব খানের ১০০টি আসনের দাবি সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এই দাবি আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা জানতে অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল


