Bangladeshi farmers struggle
Bangladeshi farmers struggle

পর্যাপ্ত সার নেই, কৃষক দিশেহারা – ডিলারশিপ নিয়ে চলছে মহোৎসব

Bengal Liberty : কলামিস্ট :নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.

বাংলাদেশের প্রাণ কৃষক। যে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, সেই দেশে আজ কৃষক সবচেয়ে বেশি অসহায়। মাঠে ফসল আছে, কিন্তু ঘরে সার নেই। ডিলারের দোকানে গেলে সার নেই, কিন্তু কালোবাজারে সার ভর্তি। এই হলো আজকের বাংলাদেশের কৃষির বাস্তব চিত্র।

আজ গ্রামে গেলে একটাই হাহাকার – সার নেই। একজন কৃষকের জমিতে যতটুকু সার প্রয়োজন, তার অর্ধেকও সে পাচ্ছে না। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, পটাশ – কোনো সারই সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। আমন ধানের মৌসুম চলছে, সামনে বোরো মৌসুম। এই সময়ে সার না পেলে ফসল মার খাবে, উৎপাদন অর্ধেক নেমে আসবে। কৃষক দিশেহারা হয়ে ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

কিন্তু ডিলারদের কাছে গেলে নানান অজুহাত। কেউ বলছে – বরাদ্দ আসেনি। কেউ বলছে – গোডাউনে মাল নেই। কেউ বলছে – সার্ভার ডাউন। আবার কেউ বলছে – পরে আসেন। এই “পরে আসেন” করতে করতে কৃষকের জমির ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে, পোকায় খেয়ে ফেলছে।

আসল রহস্য অন্য জায়গায়। সারের ডিলারশিপ নিয়ে চলছে মহোৎসব। যারা আওয়ামী লীগের আমলে বৈধ ডিলার ছিল, তাদের অনেকের লাইসেন্স বাতিল করে নতুন করে দলীয় লোকদের মধ্যে ডিলারশিপ বিলি করা হচ্ছে। একটি ইউনিয়নে যেখানে ২ জন ডিলার থাকার কথা, সেখানে ১০ জনকে ডিলার বানানো হচ্ছে, কিন্তু সারের বরাদ্দ বাড়ছে না। ফলে একজন ডিলার পাচ্ছে ১০ বস্তা, যা দিয়ে ১০০ জন কৃষকের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

এই সার চলে যাচ্ছে কালোবাজারে। সরকার নির্ধারিত ইউরিয়ার দাম ২২ টাকা হলেও কৃষককে কিনতে হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা দরে। ডিএপি ১৬ টাকার জায়গায় ৩০ টাকা। কৃষক বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছে, কারণ ফসল বাঁচাতে হবে। এর লাভের টাকা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও নতুন ডিলার সিন্ডিকেটের পকেটে।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সারের দাম বাড়লে চালের উৎপাদন খরচ বাড়ে। ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ দ্বিগুণ। শ্রমিকের মজুরি বাড়েনা। কিন্তু ধানের দাম বাড়ে না। কৃষক উৎপাদন করে লোকসানে বিক্রি করছে। এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ ১৪০০ টাকা, বিক্রি করতে হচ্ছে৯০০০ /১০০০ টাকায়। তাহলে কৃষক বাঁচবে কিভাবে?

অথচ সরকারের কৃষকের দিকে তাকানোর সময় নেই। শেখ হাসিনার সরকারের সময় আমরা দেখেছি, কৃষকদের জন্য সারের দাম ৪ দফা কমানো হয়েছিল। ইউরিয়া ৯০ টাকা থেকে ২২ টাকায় নামানো হয়েছিল। ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট, বিনামূল্যে বীজ, ভর্তুকি দিয়ে সার, কৃষি কার্ড – কত উদ্যোগ। কৃষক হাসিমুখে চাষ করতো।

আজ সেই কৃষক কাঁদছে। কৃষি অফিসে গেলে কর্মকর্তা নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যস্ত আছেন মিটিং নিয়ে। কৃষি মন্ত্রণালয় ব্যস্ত আছে আমদানির হিসাব নিয়ে।

মনে রাখতে হবে, পেটে ভাত না থাকলে কোনো উন্নয়নই টেকে না। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। অবিলম্বে কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে, প্রকৃত কৃষকের হাতে সরাসরি সার পৌঁছে দিতে হবে, ডিলারশিপের এই মহোৎসব বন্ধ করে স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

নাহলে যে কৃষক একদিন বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিল, সেই কৃষকই একদিন চাষ বন্ধ করে দেবে। তখন ১৮ কোটি মানুষ কি খাবে, তার জবাব কে দেবে?

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।