Bengal Liberty : রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ভারতের নতুন সওয়াল ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ‘সব স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা চাই’—এই দাবিতে ফের সরব হল নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি পার্বথনেনি হরিশ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পক্ষে জোরালো যুক্তি পেশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংস্কারের পর নিরাপত্তা পরিষদে যে সব দেশ স্থায়ী সদস্য হবে, তাদের সকলকেই সমান অধিকার ও দায়িত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের মতো দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার দিকটিও তুলে ধরেছেন তিনি। ঠিক কী বলেছেন ভারতের প্রতিনিধি? দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের জোরালো সওয়াল
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছে ভারত। রাষ্ট্রদূত পার্বথনেনি হরিশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হলে নতুন পরিষদের সব স্থায়ী সদস্যকে ভেটো ক্ষমতা-সহ সমান অধিকার ও দায়িত্ব দিতে হবে। ভেটো ক্ষমতাহীন বা সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী সদস্যের পৃথক শ্রেণি তৈরির প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছে ভারত।
ভেটো ক্ষমতা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকলে, সংস্কারের পর সব স্থায়ী সদস্যকেই সেই ক্ষমতা দিতে হবে। ভারতের বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন স্থায়ী সদস্যের শ্রেণি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি রাষ্ট্রসংঘে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যে পরিণত হবে। হরিশের বক্তব্য, “এতে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মৌলিক কোনও পরিবর্তন আসবে না। বরং পাঁচটি স্থায়ী সদস্যই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।”
আরও খবর
বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান
রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে একাধিকবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর থেকে শুরু করে ভারতের অন্যান্য প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন প্রভাবের মতো বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছে নয়াদিল্লি।
এবার নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আরও বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিই এই সওয়ালের মূল বিষয়। আগামী দিনে ভারতের এই দাবিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রশ্নে ভারত যে নিজের অবস্থানে অনড়, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা আরও একবার স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।


