Bengal Liberty : ‘তাহলে কি বাংলার মানুষ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন? পুলিশও কি বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে?’ গাইঘাটায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার নিয়ে এভাবেই প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, তিনি অভিযুক্তের হয়ে কথা বলছেন না। কিন্তু বারুইপুর ও গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যে একই ধরনের দাবি উঠে আসায় তদন্তের পদ্ধতি ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
অধীরের বক্তব্য, দুই ক্ষেত্রেই পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তেরা পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল। আত্মরক্ষার স্বার্থেই পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “দুটো ক্ষেত্রেই একই ঘটনা, একই কথা বলছে পুলিশ। তাহলে কি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে আমরা যোগ্য পুলিশ ভাবব?”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধীর আরও বলেন, “অপরাধীর শাস্তি হবে কোর্টে নয়, থানায়? পুলিশ মনে করলে একটা এনকাউন্টার করবে?” তাঁর মতে, অপরাধ বাড়ছে, ধর্ষণের ঘটনাও বাড়ছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার চান, তিনিও তার ব্যতিক্রম নন। কিন্তু বিচার নিশ্চিত করার নামে পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
আরও খবর
এনকাউন্টারের পর তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অধীর। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর সবাই জানলেও অপরাধের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, প্রকৃত অপরাধী কারা এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর অজানাই থেকে যাচ্ছে। “আমরা জানতে পারলাম না, প্রকৃত অপরাধী সে একাই, নাকি তার সঙ্গে আর কেউ আছে।”
পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসুরক্ষার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযুক্তের অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি, কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অধীর।


