Bengal Liberty : উৎসবের মরশুমে শহরের রেস্তরাঁ, ধাবা ও খাবারের দোকানগুলিতে ভেজাল এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি রুখতে তৎপর কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ। লাগাতার অভিযান চালিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানে খাবারের গুণমান ও সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। আর সেই নজরদারির জেরেই জরিমানা বাবদ পুরসভার আয় গত অর্থবর্ষের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই খাতে আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। বছর শেষে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।
উৎসবের মরশুম শুরুর আগে থেকেই শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে অভিযান চালাচ্ছে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ। নামী রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে ক্যাফে ও ধাবা—বাদ যাচ্ছে না কোনও প্রতিষ্ঠানই। অভিযানে খাবারের গুণমান যাচাই করতে গিয়ে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক ছবি। কোথাও পচা মাংস মজুত করে রাখা হয়েছে, কোথাও আবার চিংড়ি, প্রন প্রম্প্রেট-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ক্রেতাদের পরিবেশনের জন্য অনুপযুক্ত খাবারও সাজিয়ে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পুর আধিকারিকরা।
পাশাপাশি, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখতে গিয়েও একাধিক অনিয়মের হদিস মিলেছে। এমনকি, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও প্যাকেটজাত কিছু খাবার ক্রেতাদের পরিবেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এরপরই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ।
আরও খবর
পরিদর্শনে এই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিকে নোটিস ধরানোর পাশাপাশি জরিমানাও করছে পুরসভা। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মোট ১৭৮টি জরিমানার নোটিস জারি করা হয়েছে। তার মধ্যে ৯১টি নোটিসের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ১৫ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। বাকি ৮৭টি নোটিসের জরিমানার টাকা এখনও জমা পড়েনি।
পুরসভা সূত্রে খবর, গত অর্থবর্ষে গোটা বছরে এই খাতে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা। সেখানে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্তই আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। বকেয়া জরিমানা আদায় হলে আরও প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা পুরকোষাগারে জমা পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বছর শেষে মোট আদায় ৩০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত অর্থবর্ষের তুলনায় যা প্রায় আট গুণ। নজরদারি অব্যাহত থাকলে জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে বলেই আশা পুরকর্তাদের।


