Bengal Liberty : কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের সমস্ত পুরনিগম ও পুরসভার নির্বাচন পিছনোর আর্জি জানাল কংগ্রেস। ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পুরসভার নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিল বিরোধী শিবির। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশনার শ্রীকৃষ্ণ গুপ্তের কাছে এই চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের পাশাপাশি স্বাক্ষর করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মূল বক্তব্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর জেরে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শেষ না করে পুরনির্বাচন করা হলে বহু মানুষ আবারও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
SSR প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরভোট না করার দাবি
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বিশেষ পুনর্নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, ১ জানুয়ারি ২০২৭ ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা SSR-এর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সূচি অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬ এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৭।
এই সময়সূচির কথা উল্লেখ করে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুরনিগম, হাওড়া পুরনিগম এবং রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত পুরনিগম ও পুরসভার নির্বাচন যেন SSR প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের দাবি, এর ফলে SIR-এ বাদ পড়া যোগ্য ভোটাররা নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, পুরনির্বাচনের আগে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আরও খবর
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আবেদনকারীদের নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি
চিঠিতে শুধু SSR প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরনির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি নয়, SIR-সংক্রান্ত আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আবেদনকারীদের নামও পুরনিগম ও পুরসভার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামার উল্লেখ করে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুরনিগমে প্রায় ১.২ লক্ষ এবং হাওড়া পুরনিগমে প্রায় ৩৯ হাজার আবেদন বিচারাধীন। অর্থাৎ, দুই পুরনিগম মিলিয়ে প্রায় ১.৬ লক্ষ আবেদনকারীর ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
চিঠিতে আরও দাবি, নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় কলকাতায় ১০০ শতাংশ এবং হাওড়ায় ৯৯ শতাংশ আবেদনকারীর পক্ষে রায় হয়েছে। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ফলে পুরনির্বাচনের তালিকায় নাম না উঠলে তাঁরা দ্বিতীয়বার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দাবির সমর্থনে সংবিধানের ২৪৩ZA অনুচ্ছেদ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন, ১৯৯৪-এর ৫ নম্বর ধারার উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, পুরনির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।


