Bengal Liberty : চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ভেঙে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা, স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব এবং পুজোর উদ্যোক্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকী, পরিস্থিতি সামাল দিতে যাদবপুরে ভাঙচুরের ঘটনার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের নিয়ে আসার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়। পাশাপাশি, জুনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্যকে সমর্থন করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। চোরবাগানকাণ্ডে পুজোর মূল উদ্যোক্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ না করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভঙ্কর।
মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা ও স্বাস্থ্য দফতর নিয়ে সরব শুভঙ্কর
শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, ঘটনার সময় পুলিশ যখন ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছিল, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে যাদবপুরে স্টল ভাঙচুরের ঘটনার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের সেখানে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বারবার জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। তাঁর দাবি, জুনিয়র ডাক্তাররা যখন জানিয়েছিলেন যে তাঁরা চিকিৎসা করতে পারবেন, তখনও রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বলা হয়। সেদিন রাজনীতি না করার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রাজনীতি শুরু করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে রোগীদের জীবন বাঁচানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। জুনিয়র ডাক্তাররা যে অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এনেছেন, সেগুলিকে সমর্থন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে, জুনিয়র ডাক্তারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শুভঙ্কর।স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তাঁর বার্তা, শুধু কথাবার্তা না বলে ডেঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
আরও খবর
৩০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন অভিযানের ডাক
চোরবাগানকাণ্ডে পুজোর আয়োজক ও পরিচালনাকারী মণ্ডলীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বক্তব্য, পুজোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ডেকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। পুজোর সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তা-ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। শুভঙ্করের দাবি, ওই পুজোয় দু’বার খুঁটিপুজো হয়েছিল। নতুন করে যাঁরা পুজোর আয়োজন করেছিলেন, তাঁদের পরিচয় এবং ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তাঁর আরও বক্তব্য, পুজোর জন্য ছাপানো কার্ডে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই বিষয়ে সিট এবং বিচারপতির কাছে আবেদন জানানোর কথা বলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত পুজোর মূল উদ্যোক্তাদের কাউকেই ডাকা হয়নি। তদন্তে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে দাবি তাঁর। পাশাপশি, আগামী ৩০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দফতরে অভিযানের ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। পাশাপাশি, মাণিক ফকির বর্তমানে কোন জেলে রয়েছেন, তা জানতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বক্তব্য, “মাণিক ফকির কোন জেলে আছে আমরা জানতে পারছি না, আমরা চিন্তিত।”


