Bengal Liberty : ভক্তদের কাঁধে চড়ে দেবীর নাচ, প্রদীপ ও মোমবাতির আলোয় মায়ের ভয়াল অথচ অভয়রূপ দর্শন! কালীপুজোর পরদিন শান্তিপুরের বামাকালীর নিরঞ্জনযাত্রার এই অনন্য দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। তবে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর এ বার নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে শান্তিপুরের বামাকালী পুজো কমিটি। ভিড় সামলানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বদলে দেওয়া হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নাচের স্থান।
পুজো কমিটি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর পর্যন্ত শান্তিপুরের বড়বাজার ঘাট চৌরাস্তার মোড়ে ভক্তদের কাঁধে চড়ে নাচতেন বামাকালী। কিন্তু ওই এলাকায় বিপুল ভিড়ের কারণে এ বার প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বেজপাড়ার সুবিশাল মাঠে দেবীর নাচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছর ভিড়ের চাপে অল্প সময়ের জন্য নাচের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছিল। তাই এ বার প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথ পরিদর্শন ও আলোচনার পর স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বামা কালীর ইতিহাস
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালে ঘটপুজোর মাধ্যমে এই উৎসবের সূচনা হয়। পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৭০ সাল থেকে শুরু হয় মৃন্ময়ী প্রতিমার পুজো। প্রথম দিকে দেবী ‘যমুনাকালী’ নামে পরিচিত ছিলেন। কথিত আছে, ভক্ত যমুনা চৌধুরী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর এই পুজোর প্রচলন করেন। কালক্রমে দেবীর নাম হয় বামাকালী। ভক্তদের বিশ্বাস, তিনি অত্যন্ত জাগ্রত। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, দেবীর আবাহন থেকে বিসর্জন— কোনও পর্বেই বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার হয় না। প্রদীপ, মোমবাতি ও মশালের আলোতেই সাজানো হয় মায়ের নিরঞ্জনযাত্রা।
আরও খবর
কালীপুজোর পরদিন ঢাক, ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টার আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে শান্তিপুরের রাজপথ। বাঁশের তৈরি বিশেষ মাচায় প্রতিমাকে বসিয়ে কাঁধে তুলে নেন ভক্তেরা। মুক্তকেশী দেবীর ডান হাতে খড়্গ, বাঁ হাতে নরমুণ্ড। অন্য হাতে থাকে চাঁদমালা। প্রদীপের আলোয় দেবীর মুখমণ্ডল ও চোখের দীপ্তি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। ভক্তদের কাঁধে চড়ে এগিয়ে চলার পাশাপাশি নাচতে থাকেন দেবী। লোকবিশ্বাস, পথের মোড়ে মোড়ে থাকা তাঁর প্রিয় বান্ধবী ও বোনেদের সঙ্গে দেখা হলেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মা বামাকালী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নাচের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা। ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ বার পুজো কমিটি ও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। চোরবাগানের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই আগেভাগে এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে পুজো কমিটি।
কমিটির পক্ষে বর্ণালী চৌধুরী বলেন, “মায়ের নাচ দেখার জন্য বহু দূর থেকে অগুনতি মানুষ আসেন। চোরবাগানে যে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, আমরা চাই না তেমনটা আর কোথাও ঘটুক। তাই প্রশাসন ও পুজো কমিটি যৌথ ভাবে আলোচনা করে জায়গা বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেজপাড়ার মাঠটি বেশ বড়। পাশেই আরও দু’টি মাঠ রয়েছে। ফলে পুণ্যার্থীরা কোনও রকম হুড়োহুড়ি বা অসুবিধা ছাড়াই নিরাপদ পরিবেশে মায়ের নাচ উপভোগ করতে পারবেন।”


