Bengal Liberty : মুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে আসা নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচনে বিপুল জয়ের ধারা বজায় রাখল বিজেপি। শুধু নন্দীগ্রাম নয়, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাঁখারভ সরকার বিধানসভায় শপথগ্রহণ করেছেন। শপথগ্রহণের পরই মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া জরুরি। ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হলেও, খুনের জন্য কে বা কারা ২ কোটি টাকা দিয়েছিল, সেই রহস্যেরও কিনারা করতে চান তিনি। সেই টাকা কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট নাকি ডায়মন্ড হারবার থেকে এসেছিল, তা খুঁজে বের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “২ কোটি টাকা কে দিয়েছিল, তা বের করতে হবে। সেই টাকা কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট নাকি ডায়মন্ড হারবার থেকে এসেছিল, সেটাই খুঁজে বের করতে হবে।”
ঘটনার বৃত্তান্ত
উল্লেখ্য, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় বাইকে করে এসে আততায়ীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। খুনের ঘটনায় মনু সিংহ, রাজ সিংহ, গোলু সিংহ, ময়াঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীনকুমার সিংহ গ্রেফতার হন। তাঁরা ‘শার্প শুটার’ বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও বিনয় রায়, সঞ্জয় রায়, বিকাশ মিশ্র, সাগর সোনকার এবং সাহিল সোনকারকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ৬ আগস্ট চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই।
একাধিকবার ‘ভাইপো গ্যাং’-এর যোগসাজশের অভিযোগ শুভেন্দুর
চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনার পর তাঁর মা হাসিরানি রথকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী করে বিজেপি। তাঁর মনোনয়ন পেশের দিন সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “আমার কাছে যা খবর আছে, তাতে ঘটনার পিছনে ভাইপো গ্যাং রয়েছে। সুপারি কিলারদের ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।” এরপর আরও বিস্ফোরক দাবি করে শুভেন্দু জানান, ডায়মন্ড হারবারের একাধিক ব্যক্তির কল রেকর্ডিং তিনি শুনেছেন। সেই রেকর্ডিংয়ে ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেও দাবি করেন তিনি। তবে মামলা বিচারাধীন থাকায় এর বেশি কিছু বলতে চাননি শুভেন্দু। অন্যদিকে, হাসিরানি রথের জয়ের পর বিধানসভায় তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও একই হুঁশিয়ারি শোনা গেল শুভেন্দুর কণ্ঠে।


