Bengal Liberty : ভোটের পর তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া শিবির-বিভাজন কি এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ছেড়ে বিরোধী শিবিরে যাওয়া বিধায়কদের একাংশের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের বক্তব্যে উঠে এসেছে দলবদলের সময়কার সমঝোতা সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন। অন্যদিকে, ওই শিবিরের বিধায়ক শিউলি সাহার মুখেও শোনা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের কথা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের অন্দরেই কি মতপার্থক্য বাড়ছে?
কয়েক দিন আগেই দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশ্যে কালীঘাটে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই বার্তার পর বিভিন্ন বিধায়কের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একাংশের দাবি, এই বিধায়কদের বক্তব্যই তাঁদের পুনরায় শিবির বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলীয় সমীকরণ বদলের সময় তাঁদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছিল, তা নিয়ে ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ ছিল। তাঁর কথায়, “যেদিন আমরা সই করি, সেদিন আলাদা দল করার ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। বলা হয়েছিল, আমরা দিদির দলেই থাকব।” তাঁর আরও বক্তব্য, পৃথকভাবে নির্বাচন লড়াই এবং দুটি জায়গায় আলাদা প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ছাড়াও পরবর্তীতে দলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত যেসব আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তা তাঁদের সঙ্গে আগে থেকে আলোচনা করা হয়নি।
আরও খবর
একই সুর শোনা গেছে শিউলি সাহার বক্তব্যেও। তিনি বলেন, “আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু বাবু শুধুমাত্র বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা।” অর্থাৎ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে মানলেও নিজের মূল রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই স্মরণ করেছেন তিনি। এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে তবে কি আবারও কালীঘাটে দেখা যাবে শিউলি সাহাকে?
এর আগে আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমানও (বা সংশ্লিষ্ট বিধায়ক) ভুল বোঝানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে, বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদার এবং বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তসলিমুর রহমান ইতিমধ্যেই সেই শিবির ছেড়ে আবার মমতার দলে ফিরে এসেছেন। সব মিলিয়ে, বেশ কয়েকজন বিধায়কের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দলবদলের ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিচ্ছে। মমতার দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমার মধ্যে আরও কেউ ঘরে ফেরেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


