Bengal Liberty : দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। এবার তদন্তকারীদের নজরে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা। তবে কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ায় আপাতত তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার সুযোগ নেই পুলিশের। ফলে কী ভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা নিয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আগাম জামিনে মধুছন্দা, কী ভাবে হবে জিজ্ঞাসাবাদ?
মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তিনি আগাম জামিন পেয়েছেন। ফলে এখনই তাঁকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হবে, নাকি পুলিশ আধিকারিকেরা বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এ বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। আগাম জামিন পাওয়া অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মানতে হবে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পাস বিক্রির অভিযোগ
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এমনকি তাঁদের মেয়ের অ্যাকাউন্টের লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধুছন্দা ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই সংস্থা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমেই আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড পুজো এন্ট্রি’র পাস বিক্রি করা হত। সাধারণ মানুষকে বোঝানো হত, এই আয়োজনের সঙ্গে ইউনেস্কোর সরাসরি যোগ রয়েছে বা সংস্থাটির অনুমোদন রয়েছে। অথচ ইউনেস্কোর সঙ্গে এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল না বলেই অভিযোগ।
আরও খবর
জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে বৌবাজার থানায় এফআইআর দায়ের হয়। সেই এফআইআরে ইন্দ্রনীলের পাশাপাশি মধুছন্দার নামও রয়েছে। পুলিশ ও ইডি, দুই সংস্থাই এই মামলার তদন্ত করছে। ইন্দ্রনীলের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। বার বার তলবও করা হয়েছিল তাঁকে। গত ২৮ অক্টোবর ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গেলে সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারির আগে ইন্দ্রনীল ও মধুছন্দা দু’জনেই আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টে। মধুছন্দার আবেদন মঞ্জুর হলেও ইন্দ্রনীলের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে গ্রেফতারির পর তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। শীর্ষ আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে। এ বার তদন্তের স্বার্থে মধুছন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।


