Bengal Liberty : ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে নেমে এবার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করল লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল। শনিবার তাঁকে লালবাজারে দফায় দফায় জেরা করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের দাবি মাসআর্ট সংস্থার মাথায় রয়েছেন মধুছন্দা সেন। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে বুধবারই এই মামলায় প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার প্রায় রাত ৮টা পর্যন্ত মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, মাসআর্টের সঙ্গে যুক্ত অন্য কর্তারা যেখানে তাঁকে যেখানে সই করতে বলেছেন, তিনি সেখানেই সই করেছেন। অর্থাৎ সংস্থার অন্যান্য কর্তাদের নির্দেশ মেনেই বিভিন্ন নথিতে সই করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি সংস্থার কাজকর্ম সম্পর্কে তিনি কতটা জানতেন, আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তাঁর ভূমিকা কী ছিল এবং ইন্দ্রনীল সেনের কোনও চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে অভিযোগ মাসআর্টের বিভিন্ন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় মধুছন্দা সেনের উপস্থিতি থাকতেন।
এদিকে, তদন্তে উঠে এসেছে আর্থিক লেনদেনের আরও কিছু তথ্য। পুলিশ সূত্রে দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত থার্ড লাইন ক্রিয়েশন নামে একটি সংস্থা মাসআর্ট সোসাইটিকে ৬৬ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে ২২.৪৭ লক্ষ টাকা আইস্কেপ ও মায়রা নামে দুটি সংস্থায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। গোয়েন্দাদের দাবি, এই সংস্থা দুটির নিয়ন্ত্রণ ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ের হাতে রয়েছে। এই লেনদেনের প্রকৃত কারণ এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও খবর
অন্যদিকে, মাসআর্টের সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসুর খোঁজ এখনও মেলেনি। তাঁকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি বর্তমানে পলাতক। তাঁর বাড়িতেও গিয়ে খোঁজ মেলেনি। এই আর্থিক দুর্নীতি ও সাংগঠনিক কার্যকলাপে দ্রুবজ্যোতি বসুর ভূমিকা কী ছিল, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এফআইআরে নাম থাকা আরও কয়েকজনের ভূমিকা জানতেও তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের।
অভিযোগ, ইউনেস্কোর সঙ্গে কোনও আর্থিক বা বাণিজ্যিক চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম ব্যবহার করে প্রিভিউ শো এবং বিভিন্ন ধরনের ডোনার পাস বিক্রি করেছিল মাস আর্ট। তদন্তে প্ল্যাটিনাম ফ্যামিলি কার্ড, প্ল্যাটিনাম কাপল কার্ড এবং গোল্ড ফ্যামিলি ডোনার পাসের মতো একাধিক পাসের তথ্যও সামনে এসেছে। সেগুলির দাম ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার, সাড়ে ৩ হাজার এবং সাড়ে ৩ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল সেন ও মধুছন্দা সেন। ইন্দ্রনীল সেনের আবেদন খারিজ হলেও মধুছন্দা সেনের রক্ষাকবচ দেয় আদালত। সেই অনুযায়ী মধুছন্দা সেনকে গ্রেফতারির ক্ষেত্রে আইনী বাধা রয়েছে বলেই দাবি পুলিশের।


