kolkata police
কলকাতা পুলিশ

আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত শহরজুড়ে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জারি করার সিদ্ধান্ত পুলিশের

Bengal Liberty : মাঝে আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই আলোর উৎসবে মেতে উঠবে তিলোত্তমা। শহর জুড়ে এখন কালীপুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রতিমা মণ্ডপে আনা, পুজো পরিক্রমা এবং পরবর্তীতে বিসর্জনের সময় শহরের রাস্তায় যাতে তীব্র যানজট কিংবা কোনও অপ্রীতিকর বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তার জন্য আগাম কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। উৎসবের দিনগুলিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত শহরজুড়ে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ নির্দেশিকা জারি করে বিস্তারিত বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ে শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকছে। সেই সঙ্গে প্রতিমা বহনকারী গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট রুট ম্যাপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা এবং পুজো মণ্ডপগুলির আশপাশের ভিড় সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে এই ব্যাপারে জানানো হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত রবীন্দ্র সরণিতে থাকবে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ। গালিফ স্ট্রিট থেকে বি কে পাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ দিয়ে কেবল প্রতিমাবাহী গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে।

অন্য কোনও ভারী পণ্যবাহী যানবাহন এতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনা করে গালিফ স্ট্রিট মোড় থেকে রবীন্দ্র সরণি ধরে দক্ষিণমুখী স্বাভাবিক যান চলাচল প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। একইসঙ্গে ৫ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে ৮ নভেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত উত্তর কলকাতার একাধিক প্রধান রাস্তায় আরও কড়া বিধিনিষেধ বলবৎ থাকছে। রবীন্দ্র সরণি এড়াতে পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে বিকল্প পথ হিসেবে স্ট্র্যান্ড রোড, নিমতলা ঘাট স্ট্রিট, বি কে পাল অ্যাভিনিউ, জে এম অ্যাভিনিউ এবং গিরিশ অ্যাভিনিউ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমারটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট ঠিক করা হয়েছে। কুমোরটুলিতে প্রতিমা আনতে যাওয়ার গাড়িগুলিকে জে.এম অ্যাভিনিউ, বি.কে পাল অ্যাভিনিউ এবং অরবিন্দ সরণী হয়ে যেতে হবে। ফেরার ক্ষেত্রে মদনমোহনতলা, শ্যামবাজার স্ট্রিট, রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিট হয়ে উত্তর রবীন্দ্র সরণী দিয়ে বেরোতে হবে। প্রতিমা বহনকারী গাড়িগুলিকে শোভাবাজার স্ট্রিটের মোড় থেকে বাগবাজার স্ট্রিট পর্যন্ত রবীন্দ্র সরণির পশ্চিম দিকে পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোডের শোভাবাজার স্ট্রিট থেকে ডি সি বন্দ্যোপাধ্যায় রোড পর্যন্ত এবং মদনমোহনতলা রোডে অন্য গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। পাশাপাশি ৮ নভেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৯ নভেম্বর ভোর ৪টে পর্যন্ত রবীন্দ্র সরণির জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে ডি সি ব্যানার্জি স্ট্রিট পর্যন্ত অংশটিকে দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী অর্থাৎ ‘ওয়ান ওয়ে’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

দক্ষিণ কলকাতাতেও থাকছে ট্র্যাফিকের এই কড়াকড়ি। হাজরা রোড মোড় থেকে কালীঘাট রোডে দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী পথে প্রতিমার গাড়ি ছাড়া অন্য কোনও গাড়িকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি উচ্চতা সংক্রান্ত কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে প্রতিমার গাড়ির ক্ষেত্রেও। পুজোর বিসর্জন ও যাতায়াতের জন্য শহরের বেশ কিছু ব্রিজ ও রাস্তায় উচ্চতার সীমা নির্দিষ্ট করেছে পুলিশ। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট ব্রিজ এবং জিরাট ব্রিজ দিয়ে ৩.১৫ মিটারের বেশি উচ্চতার প্রতিমাবাহী গাড়ি চলাচল একেবারেই নিষিদ্ধ। এছাড়া শহরের সমস্ত উড়ালপুল ও সেতুতে নির্ধারিত হাইট ব্যারিয়ার মেনেই যানবাহন চালাতে হবে।

কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টে থেকে ৯ নভেম্বর ভোর ৪টে পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে ১৭টি রাস্তা। তবে কেবল সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের গাড়ি চলাচলে কিছুটা ছাড় থাকবে। বন্ধ থাকা রাস্তার তালিকায় রয়েছে, বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট, সূর্য সেন স্ট্রিট, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, এস এন ব্যানার্জি রোড (রানি রাসমণি থেকে আর এ কিদওয়াই রোড অংশ), রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, চেতলা সেন্ট্রাল রোড, রাজা রামমোহন রায় সরণি, ভীম ঘোষ লেন, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট, সাউদার্ন অ্যাভিনিউয়ের উত্তর চ্যানেল (করুণাময়ী মন্দিরের সামনে), কলেজ স্ট্রিট ও বিধান সরণি, মুদিয়ালি রোড, টালিগঞ্জ রোড, লেনিন রোড, বাগদিপাড়া রোড, জেলিয়াপাড়া রোড, পাহাড়পুর রোড।

তবে এই কড়া বিধিনিষেধের মধ্যেও শহরের জরুরি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, দমকল, পুলিশ, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, অক্সিজেন সিলিন্ডার, জীবনদায়ী ওষুধ, রক্ত, এলপিজি, সিএনজি, দুধ, শাকসবজি, ফল, মাছ, মাংস, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহের যান চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না। এছাড়া পুরসভা, নিকাশি পরিষ্কার, ডাক বিভাগ, সংবাদমাধ্যম এবং হাসপাতালের যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করতে পারবে। ছোট পণ্যবাহী গাড়ি (১৬০০ কেজির নিচে, যেমন টাটা এস, মাহিন্দ্রা জিটো) এবং বন্দরমুখী গাড়িগুলি বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি পাবে। হালকা পণ্যবাহী গাড়িগুলি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলতে পারবে।


কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে কর্তব্যরত আধিকারিকরা প্রয়োজনে যে কোনও মুহূর্তের পরিস্থিতিতে পথ পরিবর্তন করার অধিকার রাখবেন। বিশেষ করে উত্তর কলকাতা, কালীঘাট, চেতলা এবং টালিগঞ্জের দিকে যাঁরা যাবেন, তাঁদের আগেই বিকল্প পথ পরিকল্পনা করে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।