Bengal Liberty : ৭৫ বছরের ঐতিহ্য। অথচ প্ল্যাটিনাম জুবিলি বর্ষেই অনিশ্চয়তার মুখে বর্ধমান শহরের পার্কাস রোডের একটি প্রাচীন কালীপুজো। জমি ও ক্লাবঘর নিয়ে প্রোমোটারের সঙ্গে বিবাদের জেরে এ বছর পুজোর আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে উদ্যোক্তারা। সমস্যা সমাধানে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠাল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
বর্ধমান পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্ধমান ক্রীড়া শক্তি সংঘের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরেই সরস্বতী পুজোর পাশাপাশি বারোয়ারি কালীপুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। ২০২৬ সালে এই পুজো ৭৫ বছরে পা দিয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জমির মালিক ও সহ-প্রোমোটার তামিম হোসেনের সঙ্গে বহুতল নির্মাণ নিয়ে চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মাপের একটি ক্লাবঘর তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল। এমনকি বহুতলের একতলার ছাদ ঢালাইয়ের সময়ই ক্লাবের নির্ধারিত অংশ নির্মাণ করে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার শর্তও ছিল।
কিন্তু অভিযোগ, চুক্তির শর্ত মানা হয়নি। ইতিমধ্যেই বহুতলের চারতলার ছাদ ঢালাই হয়ে গেলেও ক্লাবঘর তৈরি হয়নি। উল্টে পুজোর নির্ধারিত জায়গা নির্মাণসামগ্রী দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পুজোর সামগ্রী রাখার ঘরটিও ইট ও বালি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের। জায়গা পরিষ্কার করে পুজোর প্রস্তুতি শুরু করতে গেলেও দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ক্লাব কর্তৃপক্ষের। একাধিকবার বর্ধমান থানার আইসির কাছে অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
আরও খবর
এই বিবাদের প্রভাব পড়েছে এলাকার শিশুদের উপরেও। ক্লাবঘরে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আইসিডিএস কেন্দ্র বহুতল নির্মাণের কারণে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন এলাকার শিশু ও তাঁদের অভিভাবকেরা।
যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রোমোটার তামিম হোসেন। তাঁর পাল্টা দাবি, ক্লাব কর্তৃপক্ষ বারবার তাঁকে সমস্যায় ফেলছেন এবং মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই কারণে তিনিও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং থানায় বিষয়টি জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে পুজোর ঐতিহ্য বজায় রাখা নিয়ে উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা। চুক্তি অনুযায়ী ক্লাবঘর ফিরিয়ে দেওয়া এবং নির্বিঘ্নে কালীপুজোর আয়োজনের ব্যবস্থা করার দাবিতে গত ১ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ক্লাবের সম্পাদক শ্রীধর বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জমি ও ক্লাবঘর সংক্রান্ত বিবাদের নিষ্পত্তি হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা। ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুজো শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত জায়গায় আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


