বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের আশায় ছিলেন রাজবংশী ও কামতাপুরী সম্প্রদায়ের মানুষ। অবশেষে মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় এই দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পাশাপাশি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিও শুনবেন তিনি।
উত্তরকন্যায় একাধিক কর্মসূচি সেরে বাঘাযতীন পার্কের উদ্দেশে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে শিলিগুড়ির এয়ারভিউ মোড় পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় অংশ নেবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিধায়ক, সাংসদ এবং দলীয় কর্মীরাও এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
আরও খবর
এদিকে, সকাল থেকেই উত্তরকন্যায় ভিড় জমিয়েছেন রাজবংশী ও কামতাপুরী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চললেও মিলেছে শুধুই প্রতিশ্রুতি। এবার সমস্যার সমাধানের আশায় রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অধ্যাপক পদ্মশ্রী মহেন্দ্রনাথ রায়ের কথায়, ‘‘আমাদের একাধিক দাবি রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিজের ভাষার স্বীকৃতি। এই ভাষাকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা গেলে উত্তরবঙ্গের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হবে। স্কুল-কলেজে এই ভাষায় পড়াশোনার সুযোগও তৈরি হবে।’’
অন্যদিকে, অষ্টমী রায় সিনহার দাবি, ১৯৭০ সাল থেকেই কামতাপুরী ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চলছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার রাজবংশী ও কামতাপুরী ভাষাকে আলাদা করে বিভাজনের রাজনীতি করেছে।
উল্লেখ্য, ভাষার স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে রাজবংশী মহাসংঘ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এবার সেই সংগঠনের প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি তুলে ধরতে চলেছেন। ফলে মঙ্গলবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও কামতাপুরী সম্প্রদায়ের মানুষ।


