কাদিমী মসজিদ
কাদিমী মসজিদ

১০০ বছরের পুরনো মসজিদ সরাতে হাই কোর্টে যুক্তি কেন্দ্রের

‘দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’!

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাই কোর্টে জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস চত্বরে একটি স্থায়ী ধর্মীয় স্থান অনুমোদন করা যায় না। সে ক্ষেত্রে সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় থাকবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে কাউন্সেল নিশান্ত গৌতম বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস চত্বরে ধর্মীয় স্থান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

কেন্দ্র জানিয়েছে যে, মসজিদটি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে কৃষি ভবনের চত্বরের মধ্যেই রয়েছে। এটি সরকারি জমির উপর অবস্থান করছে। মসজিদ কমিটিকে ১৯৪০ সালের ৮ নভেম্বর একটি চুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র স্বত্ব দেওয়া হয়েছে, জমিতে কোনও অধিকার দেওয়া হয়নি। তাই মসজিদের জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার যে দাবি কমিটি করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত ২ নভেম্বর শুনানিতে, বিচারপতি আনিস দয়াল কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি জায়গায় প্রার্থনার ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম আছে কি না। ২৩ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

উল্লেখ্য, মসজিদটি সরকারি অফিস নির্মাণের আগেই তৈরি হয়েছিল। মূলত আশপাশের সরকারি অফিসে কর্মরত মুসলিম কর্মীরা সেখানে প্রার্থনা করতে যান।কাদেমি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক কমিটি দাবি করেছে যে, এই স্থাপনাটি এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো। শুধু তাই নয়, এটি বর্তমান সরকারি কমপ্লেক্সেরও আগের। কমিটি বলেছে, ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত পুরনো বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথিতে এর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর দুই বছর পর, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সরকারের অধীনে ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে যখন কৃষি ভবন, শাস্ত্রী ভবন এবং পার্শ্ববর্তী সরকারি দপ্তরগুলো নির্মিত হয়, তখনও মসজিদটি সেখানে ছিল।

Bengal Liberty