Bengal Liberty: “যিনি মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তুলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মহালয়ার দিন দিল্লিতে নিজেই প্রিজন ভ্যানে উঠেছেন।” শুক্রবার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান ময়দানে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তি ঘিরে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে মমতাকে আক্রমণ করার পাশাপাশি তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০২৫ সালে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনায় সুন্দরবনের তৎকালীন পুলিশ সুপার পোটেশ্বর রাওয়ের ভূমিকা ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছেন পোটেশ্বর রাও। যাঁর নির্দেশে মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল, সেই নির্দেশদাতার পরিণতির প্রসঙ্গ টেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি মহালয়ার দিন নিজে দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে উঠেছেন। এটাই শক্তির আসল খেলা।”
এদিনের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও কর্মসূচিই রাষ্ট্রবাদী ছিল না বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরেও ২০২৬ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়নি। এমনকী নিজের বাড়িতেও পতাকা উত্তোলন করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও খবর
রামমন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা এবং মহাকুম্ভ নিয়েও মমতাকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামমন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও মিছিল করেননি। মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলার প্রসঙ্গ তুলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, মা দুর্গার পুজো করতেও তৃণমূল সরকারের আমলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হত। নতুন সরকার দেবী বন্দনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে শুভেন্দুর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেলায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে হতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যে দুর্নীতি, আবাস ও আমফান প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, বেকারত্ব এবং জমি দখলের অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দখল হয়ে যাওয়া সমস্ত জমি উদ্ধার করে দরিদ্র, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির মানুষের মধ্যে বিলি করে দেব।”
বারুইপুরের সভা থেকে এভাবেই কাকদ্বীপের মা কালীর মূর্তি ঘিরে বিতর্ককে সামনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক লড়াই আরও জোরদার করার বার্তা দেন তিনি।


