Bengal Liberty: “কাউকে দরকার নেই, চার বিধায়কই যথেষ্ট।” বারুইপুরের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভা থেকে দলেরই চার বিধায়ককে গুরুদায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে সরাসরি নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ক্যানিং, বারুইপুর, জীবনতলা-সহ ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিষেককে আক্রমণ শানান তিনি।
শুভেন্দুর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই এলাকায় বেআইনি জমি দখল, রাজনৈতিক দাপট এবং অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান দেওয়া শক্তি এবং ‘চোর তৃণমূল’কে মোকাবিলা করার জন্য আর কাউকে নামানোর প্রয়োজন নেই। এই চার বিধায়কই যথেষ্ট। সভামঞ্চ থেকে দেবাশিস ধর, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তাঁদের উপরই এলাকার দায়িত্ব অর্পণ করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, এই চার বিধায়ককে সামনে রেখেই বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। শুধু দলের সংগঠন মজবুত করাই নয়, এলাকার মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরানো এবং সামাজিক ব্যাধি দূর করে তাঁদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও নিতে হবে এই চারজনকে। অর্থাৎ, ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক লড়াইয়ে চার বিধায়ককে সামনে রেখেই সংগঠন সাজানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আরও খবর
পাশাপাশি, কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বামেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “কলকাতায় আপনার আর কিছু হবে না। যতবার ভোট হবে, ততবার হারবেন।” একই সঙ্গে আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “উনত্রিশের লোকসভায় ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে একটিও ভোট বেশি পেয়ে আপনাকে হারাব। প্রস্তুত থাকুন।”
অন্যদিকে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে বাধা, পুজোর অনুমতি এবং বিসর্জনকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অতীতে বারুইপুর সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। পুজোর অনুমতি পাওয়া থেকে শুরু করে বিসর্জন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি, বোমাবাজি ও অশান্তির পরিবেশ তৈরির জন্যও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে দায়ী করেন শুভেন্দু।


