ফের ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন সরকারি কর্মী। এবার ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি। জমির মিউটেশনের কাজ করে দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ৩ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুলতলির বিএলএলআরও অফিসের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে ফাঁদ পাতে অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)। এরপর ঘুষের টাকা নেওয়ার সময়ই ওই কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমির মিউটেশন করানোর জন্য অভিযোগকারী ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেছিলেন ওই সরকারি কর্মী। বিষয়টি নিয়ে তিনি দুর্নীতি দমন শাখার কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিকল্পনামাফিক কুলতলির বিএলএলআরও অফিসে পৌঁছন ACB আধিকারিকরা। এরপর ঘুষ নেওয়ার সময়ই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। বুধবার এই গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ধৃত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কত দিন ধরে তিনি এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন।
আরও খবর
উল্লেখ্য, ঘুষের টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করতে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা বিশেষ রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ঘুষের টাকা স্পর্শ করার পর অভিযুক্তকে রাসায়নিক মেশানো জলে হাত ডোবাতে বলা হয়। সেই জলের রং পরিবর্তন হলেই বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই টাকা স্পর্শ করেছেন। বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তৎপর হয়েছে দুর্নীতি দমন শাখা। একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষ যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য হেল্পলাইন নম্বর ও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমেও প্রচার চালানো হচ্ছে। ফলে সরকারি কাজে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠলেই দ্রুত পদক্ষেপ করার বার্তা দিচ্ছে নতুন সরকার।


