Bengal Liberty: বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার মামলায় নাম থাকা উস্তির ইমরান হাসান মোল্লাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে উস্তি থানার পুলিশ। ধৃতের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানার অন্তর্গত নাজরা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইমরান মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামীম আহমেদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই উস্তি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে ইমরানের বিরুদ্ধে। দুষ্কৃতীদের একটি দল তৈরি করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, তোলাবাজি এবং বেআইনি অস্ত্র সরবরাহের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হত বলে অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকার করলে প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধরের অভিযোগও রয়েছে।
জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনাতেও ইমরানের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ২০২০ সালে ফলতা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাঁর নাম রয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। তবে নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় ইমরানের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও খবর
শুধু অপরাধমূলক কার্যকলাপ নয়, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও ইমরানের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলকে ভোট না দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। সেই সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল বলেও দাবি। পাশাপাশি, উস্তি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাইকবাহিনী নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ অগস্ট উস্তি থানায় ৪১৩/২৬ নম্বর মামলা এবং ৬ সেপ্টেম্বর ৪৩৩/২৬ নম্বর মামলা দায়ের হয়। দুটি মামলাতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ধারাও রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ফলতা থানায় দায়ের হওয়া ১৯৬/২০২০ নম্বর মামলাতেও ইমরানের নাম রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
পুলিশের দাবি, চলতি বছরের দুটি মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই গ্রেফতারি এড়াতে বারবার আস্তানা বদল করছিলেন ইমরান। অবশেষে বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর সহযোগীদের পরিচয়, বেআইনি অস্ত্রের উৎস, তোলাবাজির টাকার হদিস এবং নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। নির্বাচনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


