Bengal Liberty: ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়—একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং অন্যটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির। কিন্তু কারা ‘আসল’ তৃণমূল তা প্রমাণ করার লড়াই এখনও জারি। সুপ্রিম কোর্ট সময় বেঁধে দিয়েছে দুই শিবিরকে। হাতে আর বেশি সময় নেই। নির্বাচন কমিশনে কারা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে প্রমাণ করতে পারবে, সেদিকে তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এই আবহে দিল্লির রাস্তায় দেখা গেল পরপর দাঁড়িয়ে আছে ৬টি ট্রাক। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লির বাসভবনের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে সেই ট্রাকগুলো।
কমিশনে পেশ করার অপেক্ষা ঋতব্রত শিবিরের
বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির চাণক্যপুরী এলাকায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে এই ট্রাকগুলিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ভিতরে যে নথি বোঝাই করা আছে, তা বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না। তবে সেই বিষয়ে খুব বেশি মুখ খুলছেন না কেউই। তবে জানা যাচ্ছে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের মালিকানা দাবি করে নির্বাচন কমিশনে নিজেদের সপক্ষে এই বিপুল হলফনামা ও প্রমাণাদি পেশ করতে চলেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ শিবির। চালকদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলেন, “মাল লোড করা আছে। আমরা এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে এসেছি।” মনে করা হচ্ছে, কলকাতা থেকে বিমানে যাওয়া নথি এয়ারপোর্ট থেকে নামিয়ে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কোথায় ওই নথি নিয়ে যাওয়া হবে, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় আছে। তার মধ্যে ঋতরা নথি নিয়ে যাবেন বলে সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে। বাংলা থেকে নেতা-কর্মীদের সই করা হলফনামা নিয়ে গিয়ে জমা দেবেন ওই শিবিরের নেতারা। অন্যদিকে, ঋতব্রতর বাড়িতে আইনজীবীর সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও খবর
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সড়কপথে ট্রাকে করে হলফনামা ও সাংগঠনিক নথিপত্র দিল্লিতে পাঠানোর সময় দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে সেই ট্রাক ছিনতাই ও হাইজ্যাক করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিল ঋতব্রত শিবির। এই ঘটনার জন্য সরাসরি ‘কালীঘাট শিবির’-এর দিকে আঙুল তোলে। অন্যদিকে, মমতা-তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ভয় দেখিয়ে হলফনামায় সই করাচ্ছেন ঋতরা। তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেও আসল তৃণমূল প্রমাণ করতে মরিয়া দুই পক্ষই।


