একজনের মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকতে পারে একাধিক প্রাণ। অঙ্গদানের মাধ্যমে মৃত্যুর পরেও অন্যের জীবনে আলো ফেরানোর এই মানবিক বার্তাই এবার স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর। ছোট থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলকে সামিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের ‘যুগ যুগ জিও অভিযান’-এর আওতায় এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩ অগস্ট দেশের ১৬তম ভারতীয় অঙ্গদান দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন (নোটো) এই প্রচার অভিযান শুরু করে।
আরও খবর
শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার-পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে অঙ্গদান নিয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। একইভাবে শিক্ষা দফতরের প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিতেও এই প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের ডিআই-দের কাছে এই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর। কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি তার বিস্তারিত তথ্য-সহ রিপোর্টও জমা দিতে হবে স্কুলশিক্ষা অধিকর্তার দফতরে।
আসলে অঙ্গদান কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতার প্রশ্নও। স্কুলস্তর থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে এই মূল্যবোধ গড়ে তোলা গেলে তারা নিজেরাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অঙ্গদানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে পারবে। সেই সূত্রেই একটি স্কুলের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বহু পরিবারে। শ্রেণিকক্ষ থেকে সমাজের বৃহত্তর পরিসরে অঙ্গদানের মতো জীবনদায়ী ভাবনাকে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


