বাঁকুড়ায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর ও দলীয় কার্যালয়ে আগুন
বাঁকুড়ায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর ও দলীয় কার্যালয়ে আগুন

বাঁকুড়ায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর ও দলীয় কার্যালয়ে আগুন! আহত ৭, পাল্টা অভিযোগ তৃণমূলেরও

বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে বিজেপির দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের কর্মীরা রওনা দিয়েছিলেন। বড়জোড়া ব্লকের তাজপুর গ্রাম থেকেও তিনটি বাসে করে বিজেপি কর্মীরা দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হন। অভিযোগ, ওই কর্মসূচি থেকে বিজেপি কর্মীরা বাড়ি ফেরার আগেই স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাজপুর গ্রামে একের পর এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধর ও লুঠপাটও চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরে দুষ্কৃতীরা বিজেপির স্থানীয় একটি দলীয় কার্যালয়েও আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। হামলায় সাত জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আক্রান্ত এক বিজেপি কর্মীর পরিবারের সদস্যা আয়েশা বিবি বলেন, “আমাদের বাড়ির পুরুষেরা দুর্গাপুরে বিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে সন্ধ্যার মুখে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। বাড়িতে থাকা নগদ টাকা লুঠ করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে মহিলাদেরও ব্যাপক মারধর করে। পরে তারা এলাকার বিজেপি কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়।”

বিজেপির বড়জোড়া ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ধনঞ্জয় গড়াই বলেন, “তাজপুর গ্রাম থেকে প্রায় ২০০ জন বিজেপি কর্মী বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই আক্রোশেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের একের পর এক কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর ও লুঠপাট করেছে।”

অন্যদিকে, পাল্টা বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে তৃণমূলও। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মীরা একের পর এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছেন। একাধিক তৃণমূল কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল পরিচালিত বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আমজাদ মণ্ডল বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। গতকাল বিজেপি কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের ১৭টি কর্মী পরিবারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, মারধর ও লুঠপাট করেছে। পরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের একাংশে নিজেরাই আগুন ধরিয়ে দেয়। এখন উল্টে আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছে।”

Bengal Liberty