Bengal Liberty: দুর্গাপুজোর আবেগকে হাতিয়ার করে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। এবার সেই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এল কলকাতা পুলিশের। মাসআর্টের সঙ্গে কোনও রকম বাণিজ্যিক চুক্তি হয়নি তাদের। লালবাজারের পাঠানো ইমেলের জবাবে কলকাতা পুলিশকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ইউনেস্কো। ফলে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস বিলির যে অভিযোগ উঠেছে, সেই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হল।
বুধবার এই মামলায় গ্রেফতার করা হয় টালা প্রত্যয় ক্লাবের প্রাক্তন উপদেষ্টা তথা মাসআর্টের সঙ্গে যুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে। ওই দিন তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে কলকাতা পুলিশ। আদালতে তদন্তকারীরা জানান, মাসআর্টের সঙ্গে ইউনেস্কোর আদৌ কোনও চুক্তি হয়েছিল কি না, তা জানতে লালবাজারের তরফে ইমেল পাঠানো হয়েছিল। তারই জবাবে ইউনেস্কো ইমেল করে জানিয়েছে, মাসআর্টের সঙ্গে তাদের কোনও চুক্তি বা সম্পর্ক নেই। অথচ ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করেছে ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা মাসআর্ট।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে ২৪টি দুর্গাপুজো কমিটিকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলে পাস বিলি করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই পাসের বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। এই ঘটনায় বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই তদন্তে উঠে আসে মাসআর্টের নাম। গ্রেফতার হন প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।
আরও খবর
তদন্তকারীদের দাবি, মাসআর্টের অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে। ওই সংস্থাগুলির সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের সদস্যদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মেয়ে আভেরি সেনকেও একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন বলে অভিযোগ। এদিকে, ইন্দ্রনীল সেনকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এবং ধ্রুবজ্যোতি বসুকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এমনকী, মাসআর্টের অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টেও টাকা গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। ইউনেস্কোর ইমেলকে হাতিয়ার করে এই আর্থিক লেনদেনের পিছনে কারা রয়েছেন, তা খুঁজে বের করাই এখন লালবাজারের তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।


