Bengal Liberty: নদিয়ার আড়ংঘাটায় কালীপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), সনাতন সংস্কৃতি এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে একাধিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীপাবলি ও কালীপুজোর প্রাক্কালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বিগত সরকারের আমলে উৎসব পালনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যা ও বাধার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নীতি ও উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত জমানায় রাজ্যজুড়ে দুর্গাপুজোর অনুমোদন এবং বিসর্জন প্রক্রিয়া নিয়ে বহু ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হত পুজো উদ্যোক্তাদের। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান প্রশাসনিক পরিবেশে রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। এ বছরও অত্যন্ত শৃঙ্খলা ও আনন্দের সঙ্গে রাজ্যজুড়ে বিসর্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পাশাপাশি, পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহিত করা এবং রাজ্যের লোকসংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উৎসবের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তা—সকলের পাশে রয়েছে বর্তমান সরকার।
আরও খবর
অনুষ্ঠান থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার সিএএ-র প্রক্রিয়া কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। পর্যাপ্ত নথি বা শংসাপত্র না থাকায় অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বর্তমান প্রশাসনের উপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে আবেদন করুন, আমরা এর স্থায়ী ও যথাযথ নিষ্পত্তি করব।”
রাজ্যের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও উৎসবের গুরুত্বের কথাও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২২ তারিখ রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে নবদ্বীপে যাবেন তিনি। সেখানে ধর্মীয় ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী দিনে নদিয়ার ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজো এবং রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নদিয়াকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রাচীন মঠ ও ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির যথাযথ সংস্কার এবং সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পর্যটন—এই তিন ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়েই আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।


