Bengal Liberty: বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ট্রাইবুনাল থেকে ইস্তফা দিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। শনিবার তিনি ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়ান। ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিচারপতি বসু। এ দিন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেকে তিনি চিঠি পাঠিয়ে সে কথা জানান। তাঁর ইস্তফার চিঠি গিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরেও। এর আগেও কয়েক জন বিচারপতি ট্রাইবুনাল থেকে ইস্তফা দেন। আরও এক বিচারপতি ইস্তফা দেওয়ায় এখন ট্রাইবুনালের কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাইবুনালের শুরু থেকেই বিশ্বজিৎ ছিলেন। তাঁর দায়িত্বে ছিল মুর্শিদাবাদ জেলা। তুলনামূলক ভাবে ওই জেলায় নাম বাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর আগে ট্রাইবুনালের কাজের পদ্ধতি নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনকেও তিনি সে কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, ট্রাইবুনালের কাজ চালাতে গেলে আদালতের মতো পরিকাঠামো প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনকে বার বার জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করেনি। ট্রাইবুনালের নোটিস জারি, নির্দেশনামা আপলোডের কোনও ওয়েবসাইট নেই। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ভাবে যোগাযোগ করা যাবে সেই বন্দোবস্তও নেই।
এসআইআরের নাম বাদ পড়াদের আবেদন যাচাই করার জন্য ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ২৩ জেলার জন্য ২০ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে ট্রাইবুনাল গঠন করেছিলেন। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরে ট্রাইবুনাল থেকে প্রথমে ইস্তফা দেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। তার পরে আরও দুই বিচারপতি সেখানে কাজ করতে রাজি হননি। গত মাসে রাস্তা খারাপের কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এ বার ব্যক্তিগত কারণে ট্রাইবুনাল ছাড়লেন বসু।
আরও খবর
শুরুতে ট্রাইবুনালে ২০ জন বিচারপতি ছিলেন। বসু ইস্তফা দেওয়ার পরে এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১৭। এ ভাবে একের পর এক বিচারপতি ইস্তফা দেওয়ায় ট্রাইবুনাল এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৮ লক্ষ আবেদন ট্রাইবুনালে বিবেচনাধীন রয়েছে। তার মধ্যে গত ছ’মাসে প্রায় ১.৫ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইবুনাল। বাকি আবেদনের কত দিনে হবে উত্তর অজানা কমিশনের।


