Bengal Liberty
অভিবাসী সমস্যা নিয়ে ক্রমশ ভয়াবহ(Ceuta)পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার স্বশাসিত শহর সেউটা। মরক্কো সীমান্ত সংলগ্ন এই শহরে অভিবাসীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এবার রাস্তায় নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে অভিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দল। উত্তেজনার মধ্যেই সেখানে থাকা কিছু জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ত্রাণ পৌঁছাতেও বাধা(Ceuta)
বৃহস্পতিবার সেউটার এল ট্রাম্পোলিন সমুদ্রসৈকত এলাকায় কয়েকশো অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। তাঁদের খাবার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য রেড ক্রসের গাড়ি সেখানে পৌঁছনোর চেষ্টা করলে পথ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়দের একাংশ। কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে ছিল স্পেনের জাতীয় পতাকা। অভিবাসীদের সেউটা ছেড়ে যাওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি রেড ক্রসের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সৈকতে সংঘর্ষ, পুলিশের হস্তক্ষেপ(Ceuta)
এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি দল অভিবাসীদের অবস্থান করা এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেখানে ভাঙচুরের পাশাপাশি কিছু সামগ্রীতে আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
আরও খবর

প্রশাসন কি নিরুদ্দেশ(Ceuta)
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সেউটায় প্রবেশের চেষ্টা করার পর থেকেই সংকটে রয়েছে ছোট্ট এই শহরটি। সীমান্ত পেরোনোর সেই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং কয়েক হাজার অভিবাসী এখনও সেউটায় অবস্থান করছেন। সীমিত পরিকাঠামোর শহরটিতে দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সামলানো যাচ্ছে না সেউটার অভিবাসী সংকট(Ceuta)
একদিকে অভিবাসীদের আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তার সমস্যা, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে সেউটা প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ মূলত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে হলেও, অভিবাসীদের অস্থায়ী শিবিরে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার, স্পেন-মরক্কো সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং অভিবাসীদের দ্রুত পুনর্বাসন বা স্থানান্তরের মাধ্যমে সেউটার এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় কি না। আপাতত পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় স্পেনের এই উত্তর আফ্রিকার শহরটি ফের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।



