Avengers Doomsday
Avengers Doomsday

“সিনেমা জগতের বিধ্বংসী ঝড়ের নাম ‘Avengers Doomsday’: রুশো ব্রাদার্সের হাত ধরে ফিরছেন ডাউনি, এভান্স ও হেমসওয়ার্থ!” (Avengers Doomsday)

Bengal Liberty Desk, ২ জানুয়ারী ২০২৬: মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স (MCU) বর্তমানে এক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ‘San Diego Comic-Con’ এ যা ঘোষণা হয়েছে, তা সিনেমার ইতিহাসে কোনো বিধ্বংসী ঝড়ের চেয়ে কম কিছু নয়। “Avengers: Doomsday” নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।

Avengers Doomsday
Avengers Doomsday

Avengers Doomsday – মার্ভেলের এক নতুন দিগন্ত

মার্ভেল স্টুডিওস যখন তাদের পঞ্চম অ্যাভেঞ্জার্স সিনেমার নাম পরিবর্তন করে “Avengers: Doomsday” ঘোষণা করল, তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এই সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক হলো কাস্ট এবং গল্পের মোড়। মাল্টিভার্স সাগার এই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন এমন কিছু চরিত্র, যাদের ছাড়া এমসিইউ অসম্পূর্ণ।

কে এই ডক্টর ডুম? (কমিক বুক অরিজিন) (Avengers Doomsday)

ভিক্টর ভন ডুম বা ‘ডক্টর ডুম’ কেবল একজন ভিলেন নন, তিনি মার্ভেল কমিকসের অন্যতম জটিল এবং শক্তিশালী চরিত্র। তার প্রেক্ষাপট জানলে বোঝা যাবে কেন তাকে মোকাবিলা করতে ক্যাপ্টেন আমেরিকা বা থরের মতো যোদ্ধাদের হিমশিম খেতে হবে।

Doctor Doom (Avengers Doomsday)
Doctor Doom (Avengers Doomsday)

• ল্যাতভেরিয়ার শাসক: ডুম কাল্পনিক দেশ ‘ল্যাতভেরিয়া’র সম্রাট। তিনি একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী এবং একই সাথে একজন দক্ষ জাদুকর।
• মেধা বনাম দম্ভ: ডুম মনে করেন যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন, কিন্তু তার পথটি হলো স্বৈরশাসন। টনি স্টার্কের মতোই তিনি একজন জিনিয়াস, কিন্তু তার লক্ষ্য পুরোপুরি অন্ধকার।
• মুখোশের রহস্য: একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সময় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়, যার দায় তিনি চাপান রিড রিচার্ডস (ফ্যান্টাস্টিক ফোর) এর ওপর। এরপর থেকেই তিনি তার চিরচেনা ধাতব মুখোশ পরতে শুরু করেন।

১. রবার্ট ডাউনি জুনিয়র: হিরো থেকে ভিলেনের মহাকাব্যিক রূপান্তর
সবচেয়ে বড় খবর হলো—আমাদের প্রিয় ‘আয়রন ম্যান’ অর্থাৎ রবার্ট ডাউনি জুনিয়র (RDJ) মার্ভেলে ফিরছেন, কিন্তু টনি স্টার্ক হিসেবে নয়! তিনি আসছেন মার্ভেলের সর্বকালের অন্যতম শক্তিশালী ভিলেন “ডক্টর ডুম” (Victor von Doom) হিসেবে।
• ভূমিকা: ডক্টর ডুম কোনো সাধারণ ভিলেন নন। তিনি যেমন ধুরন্ধর বিজ্ঞানী, তেমনি জাদুকরী বিদ্যায় পারদর্শী। মুভিতে তাকে মাল্টিভার্সের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
• তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা: অনেকে মনে করছেন এটি টনি স্টার্কেরই একটি ‘ভ্যারিয়েন্ট’, যে পথভ্রষ্ট হয়ে ডক্টর ডুম হয়েছে। ডাউনি জুনিয়রের এই প্রত্যাবর্তন সিনেমার প্রধান আকর্ষণ এবং গল্পের মূল চালিকাশক্তি।
২. ক্রিস এভান্স: ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’র প্রত্যাবর্তন?
ক্রিস এভান্সের ফেরা নিয়ে গুঞ্জন অনেকদিন ধরেই চলছিল। যদিও স্টিভ রজার্স ‘এন্ডগেম’-এ বিদায় নিয়েছিলেন, কিন্তু “Avengers: Doomsday” যেহেতু মাল্টিভার্স নিয়ে কাজ করবে, তাই তাকে ফিরিয়ে আনা খুব একটা কঠিন নয়।
• ভূমিকা: শোনা যাচ্ছে, তিনি মূল টাইমলাইনের প্রবীণ স্টিভ রজার্স হিসেবে বা অন্য কোনো ইউনিভার্সের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। অ্যান্টনি ম্যাকি বর্তমানে নতুন ক্যাপ্টেন হলেও, ডক্টর ডুমের মতো হুমকির মুখে পুরনো বন্ধুদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ক্রিস এভান্সের ভূমিকা হবে অত্যন্ত আবেগের।
৩. ক্রিস হেমসওয়ার্থ: গড অফ থান্ডারের গর্জনে ফিরছেন
থর অর্থাৎ ক্রিস হেমসওয়ার্থ এখনো এমসিইউর সক্রিয় সদস্য। ‘লাভ অ্যান্ড থান্ডার’-এর পর ভক্তরা থরকে একটি গম্ভীর এবং বিধ্বংসী রূপে দেখতে চাইছিলেন।
• ভূমিকা: “Doomsday” মুভিতে থর হতে পারেন ডক্টর ডুমের বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা। যেহেতু ডুমের শক্তি ঐশ্বরিক পর্যায়ের, তাই থরের মহাজাগতিক শক্তি (Cosmic Power) এই যুদ্ধে অপরিহার্য। হেমসওয়ার্থ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, থরের গল্প এখনো শেষ হয়নি এবং এই কিস্তিতে তাকে অনেক বেশি পরিণত লুকে দেখা যাবে।
• ⁠কেন “Avengers: Doomsday” এত গুরুত্বপূর্ণ?
১. রুশো ব্রাদার্সের প্রত্যাবর্তন: ‘ইনফিনিটি ওয়ার’ এবং ‘এন্ডগেম’ খ্যাত পরিচালক জুটি অ্যান্থনি এবং জো রুশো এই সিনেমাটি পরিচালনা করছেন। ফলে মুভির গুণগত মান এবং স্কেল যে বিশাল হবে, তা নিশ্চিত।
২. নতুন বনাম পুরনো: এখানে আমরা নতুন প্রজন্মের অ্যাভেঞ্জার্সদের (যেমন- ফ্যান্টাস্টিক ফোর, স্পাইডারম্যান) সাথে পুরনো লিজেন্ডদের একীভূত হতে দেখব।
৩. কমিক বুক রেফারেন্স: “Doomsday” সরাসরি ‘সিক্রেট ওয়ারস’ (Secret Wars) এর পথ প্রশস্ত করবে। এখানে একটি সম্পূর্ণ পৃথিবী বা মহাবিশ্ব ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
“Avengers: Doomsday” শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি মার্ভেলের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের একটি বড় লড়াই। রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের ডক্টর ডুম হিসেবে অভিষেক এবং ক্রিস এভান্স ও হেমসওয়ার্থের সম্ভাব্য উপস্থিতি দর্শকদের আবার সেই পুরনো নস্টালজিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যা আমরা ২০১৯ সালে অনুভব করেছিলাম।
২০২৬ সালের মে মাসে যখন এই ধ্বংসাত্মক ঝড় বড় পর্দায় আছড়ে পড়বে, তখন সিনেমার রেকর্ড বুক যে নতুন করে লেখা হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
গল্পের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট (The Path to Secret Wars)
“Avengers: Doomsday” সরাসরি ২০২৭ সালের “Avengers: Secret Wars”-এর দিকে নিয়ে যাবে। কমিকসের গল্প অনুযায়ী:
1. ইনকারশন (Incursion): দুটি মহাবিশ্ব যখন একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়, তখন তাকে ইনকারশন বলে। ডক্টর ডুম সম্ভবত এই ইনকারশনগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন।
2. ব্যাটলওয়ার্ল্ড (Battleworld): ডুম তার জাদুকরী এবং বৈজ্ঞানিক শক্তি দিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত মহাবিশ্বগুলোর অবশিষ্টাংশ নিয়ে একটি নতুন পৃথিবী তৈরি করবেন, যার নাম হবে ‘ব্যাটলওয়ার্ল্ড’। সেখানে তিনিই হবেন একমাত্র ঈশ্বর বা শাসক।
3. অ্যাভেঞ্জার্সদের লড়াই: এই প্রতিকূল পরিবেশে ক্যাপ্টেন আমেরিকা, থর, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ এবং ফ্যান্টাস্টিক ফোরকে এক হয়ে ডুমের সাম্রাজ্য ভাঙতে হবে।
ফ্যান্টাস্টিক ফোর-এর ভূমিকা
এই সিনেমার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে ফ্যান্টাস্টিক ফোর। কারণ কমিকসে ডক্টর ডুমের প্রধান শত্রু হলেন রিড রিচার্ডস (মিস্টার ফ্যান্টাস্টিক)। ২০২৫ সালের মুভি ‘The Fantastic Four: First Steps’ থেকে সরাসরি সংযোগ থাকবে এই অ্যাভেঞ্জার্স সিনেমার।
কেন এটি ২০০০ কোটি ডলারের ব্যবসা করতে পারে?
• রুশো ব্রাদার্স: যারা ‘সিভিল ওয়ার’, ‘ইনফিনিটি ওয়ার’ এবং ‘এন্ডগেম’ উপহার দিয়েছেন, তাদের ওপর দর্শকদের অগাধ বিশ্বাস।
• নস্টালজিয়া: টনি স্টার্ক (ভিলেন হিসেবে হলেও), ক্যাপ্টেন আমেরিকা এবং থরের একই স্ক্রিনে ফিরে আসা মানেই সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়।
• অ্যাকশন এবং ভিএফএক্স: মার্ভেল এই মুভির জন্য তাদের বাজেটের কোনো কমতি রাখছে না, বিশেষ করে ডুমের জাদুকরী ক্ষমতার দৃশ্যগুলো হবে অভাবনীয়।
“Avengers: Doomsday” কেবল একটি সুপারহিরো মুভি নয়, এটি এমসিইউ-এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের ডক্টর ডুম হিসেবে আবির্ভাব সিনেমার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। ক্যাপ্টেন আমেরিকা আর থর কি পারবেন তাদের পুরনো বন্ধুর মতো দেখতে এই নতুন শয়তানকে রুখতে? উত্তর মিলবে ২০২৬-এর মে মাসে।
[embedyt] https://www.youtube.com/watch?v=5ug_aOm7TUk[/embedyt]

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury