Bengal Liberty, Kolkata:
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়(Beldanga Incident) পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে যে ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র অশান্তি ছড়িয়েছিল, সেই ঘটনার তদন্ত এবার চাঞ্চল্যকর মোড় নিল (New twist in Beldanga case)। মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) পুলিশের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখকে খুন (Alauddin Sheikh’s murder incident) করা হয়নি। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আত্মহত্যার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

তদন্তের মোড়(Beldanga Incident)
জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) গিয়ে মৃত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে। ঝাড়খন্ডে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন মৃত আলাউদ্দিন শেখ। স্থানীয় জেলা পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী সাব-ইন্সপেক্টর। পাশাপাশি, ওই এলাকায় থাকা ৮–১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। তবে তাঁদের কেউই খুনের কোনও ষড়যন্ত্র বা সন্দেহজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি বলেই সূত্রের খবর।

আলাউদ্দিন শেখ খুন হননি(Beldanga Incident)
তদন্তকারীরা আলাউদ্দিন শেখের পোস্টমর্টেম রিপোর্টও সংগ্রহ করেছেন। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঝাড়খণ্ড পুলিশ আত্মহত্যার কথাই নথিভুক্ত করেছে। পুলিশের মতে, মানসিক অবসাদের জেরেই এই আত্মহত্যার ঘটনা।
আরও খবর
এছাড়াও আলাউদ্দিন শেখের মৃতদেহ সিলিং ফ্যান থেকে নামিয়েছিলেন কাসিম শেখ। তার বক্তব্য রেকর্ড করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। তিনিও খুন বা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার ইঙ্গিত দেননি। মৃতের মামাতো ভাই এরশাদ শেখের বক্তব্যেও খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

ঘটনার সূত্রপাত(Beldanga Incident)
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পথ অবরোধ, ভাঙচুর, ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ – পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শনিবারও উত্তেজনা কমেনি। টানা দু’দিনে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও সামনে নিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। একাধিক অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২২ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় মূল চক্রী শওকত আলী আলবানিকে। পুলিশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক পোস্ট করে দূর থেকেই অশান্তিতে ইন্ধন জুগিয়েছিল শওকত আলী আলবানি।



