Suvendu Adhikari
Suvendu Adhikari

Kasba election: ভোটের আগেই ‘বিস্ফোরক’ অভিযোগ! কসবা কেন্দ্রে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শুভেন্দু অধিকারী

Bengal Liberty, Kolkata:

ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এবার সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী Kasba election। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি সরকারি নথি প্রকাশ করে কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে ‘বেআইনি নিয়োগ’-এর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

Kasba election
Kasba election

কী অভিযোগ শুভেন্দুর? Kasba election

১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া একটি নির্দেশ, যেখানে কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় সেক্টর অফিসার ও সেক্টর সহায়ক নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, একাধিক বিদ্যালয় ও কেন্দ্রভিত্তিক বুথের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক সেক্টরের অধীনে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটকেন্দ্র রাখা হয়েছে। কিন্তু এই তালিকাকে ঘিরেই মূল আপত্তি তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, যাঁদের সেক্টর সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই স্থায়ী সরকারি কর্মচারী নন, বরং চুক্তিভিত্তিক কর্মী। এই কর্মীরা Panchayat & Rural Development Department-এর অধীনে একটি বিশেষ প্রকল্পে যুক্ত এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সঙ্গে কাজ করছেন। শুভেন্দুর দাবি, এই ধরনের কর্মীরা সরাসরি রাজ্য প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল।

.

‘গভীর ষড়যন্ত্র’, দাবি বিরোধী দলনেতার 

নিজের পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে “গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা” বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভোট পরিচালনার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এমন সংবেদনশীল দায়িত্ব সাধারণত স্থায়ী সরকারি কর্মীদের হাতে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে ‘Sector Assistant’ বা ‘Asst. Sector Officer’ নামে নতুন পদ তৈরি করে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

Kasba election
Kasba election

‘পদ বদলে একই কাজ’—উঠছে নতুন প্রশ্ন

বিরোধী দলনেতা দাবি জানান, “সেক্টর সহায়ক” বা “সহকারী সেক্টর অফিসার” নামে যে পদগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। অর্থাৎ, এই ধরনের পদ সৃষ্টি করে বাস্তবে অন্য উদ্দেশ্য পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, এই নামগুলি ব্যবহার করা হয়েছে নজর এড়ানোর জন্য এবং বাস্তবে ওই ব্যক্তিদের দিয়ে সেক্টর অফিসারের মতোই কাজ করানো হচ্ছে। এর আগেও এই একই ব্যক্তিদের “সেক্টর অফিসার” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু আপত্তি ওঠার পর তাঁদের পদবী পরিবর্তন করে “সেক্টর সহায়ক” করা হয়েছে, যদিও তাঁদের দায়িত্বে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। এই ঘটনাকে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি আড়াল করার কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন।

সাধারণভাবে সেক্টর অফিসার বা সেক্টর সহায়কদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা একাধিক ভোটকেন্দ্রের উপর নজর রাখেন, ভোটগ্রহণের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, ভোটকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখেন এবং কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনের কাছে তা পৌঁছে দেন। ফলে এই পদগুলিতে কাদের নিয়োগ করা হচ্ছে, তা নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চাইলেন শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবং CEO West Bengal – এর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি আবেদন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট নির্দেশ অবিলম্বে স্থগিত করা হোক এবং কসবা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে, এই অভিযোগ সামনে আসার পরও জেলা প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে কসবা কেন্দ্রের এই ঘটনা এখন রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। একদিকে বিরোধী পক্ষের গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের নীরবতা এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, নির্বাচন কি সত্যিই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে?

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury