Bengal Liberty : গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করেই এবার নতুন করে চর্চায় উঠে এল ভারত। দেশে বিক্ষোভ দমন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সমালোচনার আবহে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জল্পনা। রাষ্ট্রসংঘের সমালোচনাকে নস্যাৎ করার পাশাপাশি ‘মতপার্থক্যই গণতন্ত্রের অংশ’—এই বার্তাই উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের কটাক্ষ রুবিওর
ভারতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার জবাবে সরাসরি সেই অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে চাননি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। বরং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁদের ‘অক্সিমোরন’ বলে কটাক্ষ করেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে আমেরিকা কোনও মন্তব্য করতে চায় না।
বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক
প্রসঙ্গত, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।
আরও খবর
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
মানবাধিকার বিতর্কে ভারতের অবস্থান
অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সমালোচনা আগেই খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, মানবাধিকারকে কোনও দেশের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান ও যাচাই না করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরারও বিরোধিতা করেছে কেন্দ্র।
সব মিলিয়ে, বিক্ষোভ দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে ভারত ও রাষ্ট্রসংঘের মধ্যে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রুবিওর মন্তব্য সেই বিতর্কে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ না করার বার্তাকে সামনে আনলেও, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


