Bengal Liberty : ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান কি এবার হতে চলেছে? দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নিয়ে এখনও রয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা। প্রচলিত বাণিজ্যচুক্তির বদলে ভিন্ন ধরনের কোনও সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে দুই দেশ, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে ট্রাম্পের বক্তব্যে। অন্যদিকে, মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োর সফর ঘিরেও কূটনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা।
চুক্তি নিয়ে কী ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। শুল্কনীতি, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত বলে ট্রাম্পের ইঙ্গিত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী ধরনের সমঝোতা হতে চলেছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না আসা পর্যন্ত চুক্তির চূড়ান্ত কাঠামো নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
রুবিয়োর সফর ঘিরে বাড়ছে তৎপরতা
ভারতে তিন দিনের সফরে এসেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রুবিয়োর দাবি, বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দুই দেশ এখন অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। বাকি রয়েছে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা।
আরও খবর
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের মার্কিন বাজারে প্রবেশ, শুল্কের হার এবং আমেরিকার প্রযুক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে চুক্তির শর্তাবলি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোন ক্ষেত্র কতটা লাভবান হবে, তা স্পষ্ট নয়।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পর ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আশার আলো দেখছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ট্রাম্পের বক্তব্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে তিনি যে ‘ভিন্ন ধরনের’ সমঝোতার কথা বলেছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কী শর্তে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।


