Bengal Liberty
প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে(Peru Earthquake) উঠল দক্ষিণ পেরুর আন্দিজ পর্বতাঞ্চল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৭। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার পরই বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কোথায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্র(Peru Earthquake)
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, পেরুর আয়াকুচো অঞ্চলের পারিনাকোচাস প্রদেশের উপাহুয়াচো শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎস হওয়ায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হলেও প্রথম দিকে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবর মেলেনি।
কেঁপে উঠল একাধিক এলাকা(Peru Earthquake)
শুধু ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নয়, দক্ষিণ পেরুর ইকা এবং আরেকিপা-সহ একাধিক এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। শক্তিশালী কম্পনের জেরে বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর ও বিভিন্ন ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে প্রশাসনের তরফে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই।
আরও খবর
কেন বড় ক্ষতি এড়ানো গেল(Peru Earthquake)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পটির উৎস ভূপৃষ্ঠের বেশ গভীরে হওয়ায় শক্তিশালী কম্পন সত্ত্বেও প্রথম দিকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর। ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনও আশঙ্কাও নেই বলে জানিয়েছে পেরুর নৌবাহিনী।
কেন বারবার ভূমিকম্প(Peru Earthquake)
পেরু, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া-সহ দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। এর মূল কারণ পৃথিবীর ভূত্বকের গঠন এবং টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত গতিবিধি। পৃথিবীর ভূত্বক বিশাল বিশাল কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলি নিচের অপেক্ষাকৃত উত্তপ্ত ও নমনীয় শিলাস্তরের উপর ধীরে ধীরে চলাচল করে।

দুটি প্লেট যেখানে পরস্পরের সংস্পর্শে আসে, সেখানে ঘর্ষণের কারণে অনেক সময় তারা আটকে যায়। কিন্তু প্লেটের গতিবিধি থেমে থাকে না। ফলে আটকে থাকা অংশে ক্রমশ বিপুল চাপ জমতে থাকে। একসময় সেই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বিশেষভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ। কারণ, এখানে নাজকা প্লেট দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের নীচে প্রবেশ করছে। এই প্রক্রিয়াকে ‘সাবডাকশন’ বলা হয়। ফলে এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্পের পাশাপাশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও বেশি। বিশ্বের অধিকাংশ শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে ঘটে। এই এলাকায় একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সীমানা থাকায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ তুলনামূলকভাবে বেশি।



