Bengal Liberty : একদিকে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে প্রকল্পের বাস্তবায়নে প্রশাসনিক গতি বাড়ানোর তৎপরতা। ১২৫ দিনের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে এবার সরাসরি পঞ্চায়েত দফতরে গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সল্টলেকের পঞ্চায়েত ভবনে বিভিন্ন জেলার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও)-দের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। জেলাভিত্তিক প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোথায় কাজের গতি কম এবং কেন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ও পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত সপ্তাহেই সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে ১২৫ দিনের কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রকল্পের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, কাজে গতি আনার জন্য আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এমনকী, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা কাজে অনীহা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট বিডিওদের বদলির বিষয়টিও বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। এবার সেই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা সরাসরি বিডিওদের কাছ থেকেই জানতে চাইবেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বিজেপি। কাজ করেও বহু শ্রমিক মজুরি পাননি বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সেই রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেই রাজ্যে পালাবদলের পর গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা কার্যকর হয়েছে কেন্দ্রের ভিবি-জি রাম জি আইনের আওতায়। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে এই আইন কার্যকর হয়েছে।
আরও খবর
নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়নে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। সেই কারণেই জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বলে দাবি সংশ্লিষ্ট দফতরের। বুধবারের বৈঠক থেকে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ আসতে পারে বলে জল্পনা প্রশাসনিক মহলে। ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বাস্তবায়নে এবার সরাসরি নজরদারিতে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী।


