Bengal Liberty Desk, Kolkata:
অবশেষে সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারকে গ্রেফতার করল ইডি Joy Kamdar arrested। আজ সকালে বেহালার বাড়ি থেকে আটক করে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। সূত্রে খবর, আর্থিক তছরূপ মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
অবশেষে ইডির হাতে গ্রেফতার জয় কামদার Joy Kamdar arrested
অবশেষে ইডির হাতে গ্রেফতার হলেন সান এন্টারপ্রাইডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদার। আর্থিক তছরূপ মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। অনেক দিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন বলে সূত্রের খবর। ইডি সূত্রে খবর, গত ১ এপ্রিল ‘সোনা পাপ্পু’-র বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় জয় কামদারের বাড়ি থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই বেশ কিছু আর্থিক লেনদেনের সূত্র সামনে আসে। তারপর তাকে দু’বার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। সেই কারণেই রবিবার সকালে সরাসরি তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তল্লাশি এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আটক করে বিস্তারিতভাবে জেরা করার জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাকে গ্রেফতার কর হয়। জেরায় অসহযোগিতা করছেন কামদার, এমনটাই অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বিরুদ্ধে ১১০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে ইডি সূত্রে। গ্রেফতারের পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সোমবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হতে পারে।
আরও খবর
ভোরে বেহালার বাড়িতে ইডির তল্লাশি
উল্লেখ্য, রবিবারসীয় ভোরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বেহালায় সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। তবে সেখানে পৌঁছনোর পর প্রথমে গেট খোলা হয়নি। প্রায় ৪০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। ইডি আধিকারিকদের উপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে জয় কামদারের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত সকাল প্রায় সাড়ে ছ’টা নাগাদ গেট খোলা হলে বাড়ির ভিতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের খবর, একটি আর্থিক তছরুপ ও অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই বেশ কিছু দিন ধরেই জয় কামদার তদন্তকারী সংস্থার নজরে ছিলেন। এর আগেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’বার তলব করা হয়েছিল বলে জানা যায়, তবে তিনি সেই ডাকে সাড়া দেননি বলেই সূত্রের দাবি।
রবিবারের অভিযানের সময় তাঁর বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথি, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, মোবাইল ফোন এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। তল্লাশি শেষ হওয়ার পর জয় কামদারকে বেহালার বাড়ি থেকেই আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় সিজিও কমপ্লেক্সে, যেখানে ইডির দফতরে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা তাঁকে গ্রেফতার করেন বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীরা জয় কামদারের আর্থিক লেনদেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই গ্রেফতারির ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। দলের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে চাপে রাখার চেষ্ঠা চলছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এই গ্রেফতারির ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তাদের বক্তব্য, ইডি সম্পূর্ণভাবে আইনের পথ মেনেই তদন্ত চালাচ্ছে এবং আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করেছে।
আরও পড়ুন: মহিলা বিল ঘিরে মোদির ভাষণকে ‘ভণ্ডামি’ বলে আক্রমণ তৃণমুল সুপ্রিমোর


