প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া পোস্টারে আপত্তিকর শব্দ লেখার ঘটনায় দুই পড়ুয়াকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই এবার সরব অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। শুধু বহিষ্কৃত দুই পড়ুয়াই নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনও ‘বড় মাথা’ রয়েছে বলেও দাবি এবিভিপির। সেই সঙ্গে দ্রুত ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবিও তুলেছে তারা।
ঘটনার সূত্রপাত স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে রাখা স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পড়ুয়া অশালীন মন্তব্য করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে নামে এবিভিপি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই ছাত্রকে বহিষ্কার করে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু এবিভিপির অভিযোগ, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করতে হবে। এই দাবি তুলেই প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দলীয় পতাকা এবং স্বামীজির ছবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবিভিপির ছাত্ররা।
আরও খবর
এবিভিপির বক্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন তাঁর ছবির উপর এ ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেবে না। যারা এই কাজ করেছে, তাদের পড়ুয়া বলেও মানতে নারাজ সংগঠন। তবে তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাঁদের বহিষ্কার করেছে, তাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এর পিছনে আরও কারও মদত থাকতে পারে। তাই গোটা ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনতে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে তারা।
পাশাপাশি, কেন অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবিভিপি। আইনব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার কথা জানিয়ে সংগঠনের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তারা।
উল্লেখ্য, শনিবার যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। তাদের প্রত্যেক রাষ্ট্রবাদী ভাইবোনদের অভিনন্দন যে তারা টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, আরশোলা-ছারপোকা, দিমাগী নকশালদের একদম যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি পরিষ্কার কাজ করছে। এটা চালিয়ে যেতে হবে। যেটুকু যেখানে যা আগাছা আছে, ব্লিচিং, ফিনাইল যা লাগবে, সরবরাহ করব আমরা। পরিষ্কার করতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে চাপানউতোর আরও বাড়ল।


