Supreme Court Challenge Over Protection Order for Abhishek Banerjee
Supreme Court Challenge Over Protection Order for Abhishek Banerjee

অভিষেকের রক্ষাকবচের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য

মমতা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য। গত অগস্ট মাসে তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। শীর্ষ আদালতে সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশ মতো চলতি মাসের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের রক্ষাকবচ রয়েছে। এখন সেই নির্দেশই বদল চায় রাজ্য। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। দীপাবলির পরে আদালত খুললে ওই মামলার শুনানি।

গত ২৫ অগস্ট হাই কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার সময় তার উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিল রাজ্য। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাদের ওই আবেদন খারিজ করে দেয়। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি গুরুতর। ফৌজদারি মামলায় তার আলাদা আইনি প্রতিকার রয়েছে। কিন্তু তিনি সেই পথে যাননি। এমনকি অভিষেক আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। তা না করে কেন তিনি রক্ষাকবচ চাইছেন? রাজ্যের যুক্তি, একাধিক এফআইআরকে একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে শুনানি করা যায় না। প্রতিটি এফআইআরের জন্য পৃথক আইনি পদক্ষেপ করা উচিত। কোনও অভিযুক্তকেই একাধিক মামলায় ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়া উচিত নয়।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হচ্ছে অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই ওই মামলাগুলি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর-এর কথা আদালতে জানান তৃণমূল সাংসদ। তার মধ্যে ভবানীপুর, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানার মামলায় তাঁকে রক্ষাকবচ দেয় হাই কোর্ট।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, কালীতলা ও বিষ্ণুপুর থানার মামলায় অভিষেকের সরাসরি যোগের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ওই দু’টি ঘটনা কয়েক বছর আগেকার। কালীতলার ঘটনাটি ২০১৭ সালের। অন্যটি হয়েছিল ২০২০ সালে বিষ্ণুপুর থানায়। অথচ সেই সময় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরে জুন মাসে দু’টি অভিযোগই দায়ের হয়েছে। যদিও প্রাথমিক ভাবে আদালত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মামলাগুলি দায়ের হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত ওই সিদ্ধান্ত জানাবে।

অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের কোনও এফআইআর বাতিল করেনি আদালত। গত ২৫ অগস্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে হাই কোর্ট জানায়, তদন্ত চলবে। অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পাঠাতে পারবে পুলিশ। তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশেও যাওয়া যাবে না। আগামী ২৩ নভেম্বর পুলিশের কাছে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট চেয়েছে আদালত।

Soham Mullick
সোহম মল্লিক

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা। ডিজিটাল মাধ্যমেই সাংবাদিকতার জগতে হাতেখড়ি। বর্তমানে Bengal Liberty-র কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসাবে গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছে। খেলাধুলা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ। পাশাপাশি, সব ধরনের খবরের খোঁজে কাটে রাত-দিন। অভিজ্ঞদের থেকে প্রতিনিয়ত শেখার আগ্রহ রয়েছে। কাজের বাইরে নেশা বলতে, সঙ্গীত চর্চা এবং ড্রামস বাজানো।