Bengal Liberty : পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেস এবং বিশেষ করে রাহুল গান্ধিকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাহুলের বহুচর্চিত ‘মহব্বত কি দোকান’ স্লোগান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা; একাধিক বিষয় নিয়ে বিরোধী দলনেতাকে কটাক্ষ করেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের মধ্যে পঞ্জাব-সহ গোটা দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা করেছেন শাহ।
চণ্ডীগড়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধির ‘মহব্বত কি দোকান’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘রাহুলজি, আপনার প্রেমের দোকানে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না।’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। রাহুলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মক পার্লামেন্ট’ বা ছায়া সংসদের প্রসঙ্গ টেনেও আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন থেকেই এই ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করছেন কংগ্রেস নেতা।
শাহের কথায়, ‘রাহুল গান্ধি প্রধানমন্ত্রী হতে চান। তাই তিনি মক পার্লামেন্ট ডাকার এই নতুন পথ খুঁজে নিয়েছেন। রাহুলজি, আপনার এই ছায়া সংসদেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকুন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু কখনও সত্যি হবে না।’ অর্থাৎ, ছায়া সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা পালন করলেও বাস্তবে সেই পদে পৌছৗনো রাহুলের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই কটাক্ষ করেন তিনি।
আরও খবর
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও এ দিন কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দিল্লির বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ফলের প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে রাজধানীতে একটিও আসন পায়নি কংগ্রেস। তাঁর দাবি, আগামী তিনটি নির্বাচনেও দিল্লিতে খাতা খুলতে পারবে না হাত শিবির। বিরোধী আসনেই বসতে হবে কংগ্রেসকে। উৎসবের মরশুমে রাজনৈতিক সমাবেশ না করার জন্য দিল্লির ব্যবসায়ীদের তরফে কংগ্রেসের কাছে যে আর্জি জানানো হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি।
অন্য দিকে, ২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এগোতে চাইছে বিজেপি। এত দিন রাজ্যে জোটসঙ্গী হিসেবে রাজনীতি করলেও এ বার নিজেদের শক্তিতে সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়েই ময়দানে নামতে চাইছে পদ্ম শিবির। সেই লক্ষ্যেই পঞ্জাবের অন্যতম বড় সমস্যা মাদক পাচার ও নেশার বিস্তারকে ভোটের প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিজেপি।
শাহ এ দিন ঘোষণা করেছেন, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পঞ্জাব-সহ গোটা দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। পঞ্জাবের যুবসমাজের মধ্যে মাদকের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে এই প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে রাজ্যের ভোটারদের কাছে পৌঁছতে চাইছে বিজেপি।
এদিকে, পঞ্জাবের ভোটের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই আম আদমি পার্টিও। ইতিমধ্যেই ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। যদিও তালিকায় নাম থাকা দু’জন পরে দল ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শাহের আক্রমণ এবং মাদকমুক্ত পঞ্জাবের প্রতিশ্রুতি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।


